ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই ছিল তীব্র উত্তেজনা। দুই দিনের ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণার পর দেখা গেল একতরফা আধিপত্য—সমিতির সবগুলো পদেই জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। এতে আইনজীবী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই পেশাজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতি-এর কার্যকরী কমিটির ২৩টি পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল প্যানেল)। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেল।
গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৬৯ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম কামালউদ্দীন পান ২ হাজার ১৭৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবু বাক্কার সিদ্দিক পান ১ হাজার ৬৬৭ ভোট।
এই দুই শীর্ষ পদেই ভোটের ব্যবধান স্পষ্টভাবে বিএনপি প্যানেলের শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।
শুধু শীর্ষ পদ নয়, সমিতির অন্যান্য সম্পাদকীয় পদগুলোতেও বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে দপ্তর সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক—সবখানেই একই ফলাফল দেখা গেছে।
এছাড়া সদস্য পদের ১০টি আসনেও নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন, যা পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।
একজন সিনিয়র আইনজীবী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “এই ফলাফল শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং আইনজীবীদের একটি বড় অংশের মতামতের প্রতিফলন। তবে বিরোধী পক্ষের অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় প্রতিযোগিতা পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না।”
এবারের নির্বাচনে বড় একটি বিষয় ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অনুপস্থিতি। দলটির পক্ষ থেকে কোনো প্যানেল দেওয়া হয়নি।
কিছু আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চাইলেও তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্বাচন মূলত বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিজয়ী প্যানেলের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তারা আইনজীবীদের অধিকার রক্ষা ও সমিতির কার্যক্রম গতিশীল করতে কাজ করবেন।
অন্যদিকে পরাজিত প্যানেলের কয়েকজন সমর্থক অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ ছিল না। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী সংগঠনে একক প্যানেলের পূর্ণ জয় ভবিষ্যতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একধরনের একক প্রভাব তৈরি করতে পারে। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে, তবে মতবৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন না হলে গণতান্ত্রিক চর্চা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একজন আইন বিশ্লেষক বলেন, “যেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকে, সেখানে সিদ্ধান্তগুলো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। এই জায়গাটা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। যদিও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে, তবুও অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভবিষ্যতে এমন নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ফলাফল স্পষ্টভাবে একটি পক্ষের প্রাধান্য দেখিয়েছে। তবে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা থামছে না।
আগামী দিনে নবনির্বাচিত কমিটি কীভাবে সমিতিকে পরিচালনা করে এবং সব পক্ষের আস্থা অর্জন করতে পারে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই ছিল তীব্র উত্তেজনা। দুই দিনের ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণার পর দেখা গেল একতরফা আধিপত্য—সমিতির সবগুলো পদেই জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। এতে আইনজীবী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই পেশাজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতি-এর কার্যকরী কমিটির ২৩টি পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল প্যানেল)। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেল।
গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৬৯ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম কামালউদ্দীন পান ২ হাজার ১৭৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবু বাক্কার সিদ্দিক পান ১ হাজার ৬৬৭ ভোট।
এই দুই শীর্ষ পদেই ভোটের ব্যবধান স্পষ্টভাবে বিএনপি প্যানেলের শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।
শুধু শীর্ষ পদ নয়, সমিতির অন্যান্য সম্পাদকীয় পদগুলোতেও বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে দপ্তর সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক—সবখানেই একই ফলাফল দেখা গেছে।
এছাড়া সদস্য পদের ১০টি আসনেও নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন, যা পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।
একজন সিনিয়র আইনজীবী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “এই ফলাফল শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং আইনজীবীদের একটি বড় অংশের মতামতের প্রতিফলন। তবে বিরোধী পক্ষের অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় প্রতিযোগিতা পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না।”
এবারের নির্বাচনে বড় একটি বিষয় ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অনুপস্থিতি। দলটির পক্ষ থেকে কোনো প্যানেল দেওয়া হয়নি।
কিছু আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চাইলেও তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্বাচন মূলত বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিজয়ী প্যানেলের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তারা আইনজীবীদের অধিকার রক্ষা ও সমিতির কার্যক্রম গতিশীল করতে কাজ করবেন।
অন্যদিকে পরাজিত প্যানেলের কয়েকজন সমর্থক অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ ছিল না। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনজীবী সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী সংগঠনে একক প্যানেলের পূর্ণ জয় ভবিষ্যতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একধরনের একক প্রভাব তৈরি করতে পারে। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে, তবে মতবৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন না হলে গণতান্ত্রিক চর্চা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একজন আইন বিশ্লেষক বলেন, “যেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকে, সেখানে সিদ্ধান্তগুলো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। এই জায়গাটা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। যদিও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে, তবুও অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভবিষ্যতে এমন নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ফলাফল স্পষ্টভাবে একটি পক্ষের প্রাধান্য দেখিয়েছে। তবে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা থামছে না।
আগামী দিনে নবনির্বাচিত কমিটি কীভাবে সমিতিকে পরিচালনা করে এবং সব পক্ষের আস্থা অর্জন করতে পারে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন