বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, কোনো চক্রান্তই সফল হবে না এবং দেশের মানুষই এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।
রোববার সকালে রাজধানীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি লাখো মানুষের আত্মত্যাগের ফল। প্রায় ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। কেউ যদি কৌশলে এই ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায় বা নতুন প্রজন্মের কাছে ভিন্নভাবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তাই এ ইতিহাস রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে চায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার। কারণ নানা দিক থেকে নতুন নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এসব মোকাবিলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখেই বোঝা যায়, আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। এখনো সময় আছে—যাতে আর কোনো শিশুর মৃত্যু না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট বিএনপির তৈরি নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ জন্য তিনি সরকারের কাছে সোলার প্যানেলের ওপর কর কমানোর দাবি জানান। বিশেষ করে যন্ত্রাংশ আমদানিতে যে উচ্চ কর দিতে হয়, তা কমিয়ে আনলে সাধারণ মানুষও সহজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট নতুন কিছু নয়। গত এক দশকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার বিভিন্ন বড় প্রকল্প হাতে নিলেও জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, হাম রোগও সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য ঘাটতি থাকলেই এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশেও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলেও কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়।
রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা যেমন ছিল, তেমনি ছিল জনস্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন। তিনি সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, রিজভীর এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক সমালোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে দেশের ইতিহাস, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।
বিষয় : স্বাধীনতার বিকৃতির রিজভী

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, কোনো চক্রান্তই সফল হবে না এবং দেশের মানুষই এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।
রোববার সকালে রাজধানীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি লাখো মানুষের আত্মত্যাগের ফল। প্রায় ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। কেউ যদি কৌশলে এই ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায় বা নতুন প্রজন্মের কাছে ভিন্নভাবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তাই এ ইতিহাস রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে চায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার। কারণ নানা দিক থেকে নতুন নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এসব মোকাবিলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখেই বোঝা যায়, আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। এখনো সময় আছে—যাতে আর কোনো শিশুর মৃত্যু না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট বিএনপির তৈরি নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাসাবাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ জন্য তিনি সরকারের কাছে সোলার প্যানেলের ওপর কর কমানোর দাবি জানান। বিশেষ করে যন্ত্রাংশ আমদানিতে যে উচ্চ কর দিতে হয়, তা কমিয়ে আনলে সাধারণ মানুষও সহজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট নতুন কিছু নয়। গত এক দশকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার বিভিন্ন বড় প্রকল্প হাতে নিলেও জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, হাম রোগও সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য ঘাটতি থাকলেই এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশেও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলেও কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়।
রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা যেমন ছিল, তেমনি ছিল জনস্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন। তিনি সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, রিজভীর এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক সমালোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে দেশের ইতিহাস, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন