দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পরিবর্তনের নতুন বার্তা নিয়ে রাজধানীতে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পুরোনো ধাঁচের সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় এসব কথা বলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
শোভাযাত্রায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। “ব্যাঙের ছাতার মতো” অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠা হলে সাংবাদিকতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন মন্তব্যও উঠে আসে তাদের বক্তব্যে।
তারা দাবি করেন,
নেতৃবৃন্দের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া খবর প্রকাশ করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
একজন বক্তা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি। দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ পরিবেশন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।”
তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নতুন করে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিডিয়া নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের।”
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো:
আগামী ৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব দাবিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন—
ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, অশোক ধর, বীথি মোস্তফা, ফাতেমা আক্তার, শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা, যারা এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেন ফরিদপুরে হামলার শিকার এক সাংবাদিকও। তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল থেকে সরাসরি এসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, কিভাবে দুর্বৃত্তদের হামলায় তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তার এই বর্ণনা উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলবে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ। এর মধ্যে রয়েছে—
দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া খবর ও অপেশাদার সাংবাদিকতার ঝুঁকিও।
এই পরিস্থিতিতে—
একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
যদিও এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে চায় দেশের সাংবাদিক সমাজ। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে কেন্দ্র করে যে দাবি ও আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এই খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এসব দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পরিবর্তনের নতুন বার্তা নিয়ে রাজধানীতে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পুরোনো ধাঁচের সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় এসব কথা বলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
শোভাযাত্রায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। “ব্যাঙের ছাতার মতো” অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠা হলে সাংবাদিকতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন মন্তব্যও উঠে আসে তাদের বক্তব্যে।
তারা দাবি করেন,
নেতৃবৃন্দের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া খবর প্রকাশ করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
একজন বক্তা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি। দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ পরিবেশন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।”
তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নতুন করে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিডিয়া নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের।”
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো:
আগামী ৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব দাবিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন—
ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, অশোক ধর, বীথি মোস্তফা, ফাতেমা আক্তার, শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা, যারা এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেন ফরিদপুরে হামলার শিকার এক সাংবাদিকও। তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল থেকে সরাসরি এসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, কিভাবে দুর্বৃত্তদের হামলায় তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তার এই বর্ণনা উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলবে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ। এর মধ্যে রয়েছে—
দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া খবর ও অপেশাদার সাংবাদিকতার ঝুঁকিও।
এই পরিস্থিতিতে—
একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
যদিও এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে চায় দেশের সাংবাদিক সমাজ। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে কেন্দ্র করে যে দাবি ও আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এই খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এসব দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন