রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবসের সমাবেশ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শ্রমজীবী মানুষ।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং বন্ধ কলকারখানাগুলোর তালিকা ও অবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা কাজ শুরু করেছি—কোন কোন কলকারখানা দ্রুত চালু করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের আবার কর্মসংস্থানে ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর রোডম্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোর কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ এখনও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন,
“কারখানা বন্ধ হওয়ার পর পরিবার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। সরকার যদি আবার চালু করে, তাহলে আমরা অন্তত আগের মতো কাজ করতে পারবো।”
আরেকজন শ্রমিক জানান, শুধু কারখানা চালু করাই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত বেতন ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেকারত্ব কমাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন,
“দেশে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনি বিদেশেও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে শিল্পখাতে নতুন গতি আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
শুধু শিল্পখাত নয়, অনানুষ্ঠানিক খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; তাদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন,
“হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা হলে শহরের শৃঙ্খলা ও জীবিকা—দুটোই রক্ষা করা সম্ভব।”
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন,
“যখনই দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের পেশাদার খেলোয়াড় বাছাইয়ের উদ্যোগের কথাও জানান। তিনি বলেন, আগামী দিন থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে—
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অবকাঠামো, বিনিয়োগ বা ব্যবস্থাপনার অভাবে উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে সফল হয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—
একজন শিল্প বিশ্লেষক বলেন,
“কারখানা চালু করা সহজ নয়। বাজার চাহিদা, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ও ব্যবস্থাপনা—সবকিছু সমন্বয় করতে হবে।”
মহান মে দিবসে শ্রমিকদের সামনে দেওয়া এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে এই প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পাবে, তা নির্ভর করছে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর। শ্রমিকদের প্রত্যাশা এখন—ঘোষণার বাইরে বাস্তব কাজের মাধ্যমে তারা যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবসের সমাবেশ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শ্রমজীবী মানুষ।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং বন্ধ কলকারখানাগুলোর তালিকা ও অবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা কাজ শুরু করেছি—কোন কোন কলকারখানা দ্রুত চালু করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের আবার কর্মসংস্থানে ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর রোডম্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোর কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ এখনও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন,
“কারখানা বন্ধ হওয়ার পর পরিবার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। সরকার যদি আবার চালু করে, তাহলে আমরা অন্তত আগের মতো কাজ করতে পারবো।”
আরেকজন শ্রমিক জানান, শুধু কারখানা চালু করাই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত বেতন ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেকারত্ব কমাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন,
“দেশে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনি বিদেশেও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে শিল্পখাতে নতুন গতি আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
শুধু শিল্পখাত নয়, অনানুষ্ঠানিক খাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; তাদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন,
“হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা হলে শহরের শৃঙ্খলা ও জীবিকা—দুটোই রক্ষা করা সম্ভব।”
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন,
“যখনই দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়েছে, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের পেশাদার খেলোয়াড় বাছাইয়ের উদ্যোগের কথাও জানান। তিনি বলেন, আগামী দিন থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে—
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অবকাঠামো, বিনিয়োগ বা ব্যবস্থাপনার অভাবে উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে সফল হয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—
একজন শিল্প বিশ্লেষক বলেন,
“কারখানা চালু করা সহজ নয়। বাজার চাহিদা, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ও ব্যবস্থাপনা—সবকিছু সমন্বয় করতে হবে।”
মহান মে দিবসে শ্রমিকদের সামনে দেওয়া এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে এই প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পাবে, তা নির্ভর করছে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর। শ্রমিকদের প্রত্যাশা এখন—ঘোষণার বাইরে বাস্তব কাজের মাধ্যমে তারা যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন