দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল

ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল

এমপিদের স্লোগান-হট্টগোলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ"

৪৫ দিনে সীমান্তে বেড়া: অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে গয়েশ্বরের বার্তা: ‘ক্ষমতায় যে-ই আসুক, সম্পর্ক থাকবে স্থিতিশীল’

সংসদে বিরোধী কণ্ঠের স্বাধীনতা চাই—সুস্থ গণতন্ত্রে জোর দিলেন ড. আবদুল মঈন খান

সংসদের প্রথম দিনেই আবেগঘন বার্তা: ‘জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু’—ডা. মাহমুদা মিতু

“প্রধানমন্ত্রীকে ‘পুকি’ নয়, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেখতে চাই” — এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

জাপান সফরে জামায়াত আমির: প্রবাসী কার্যক্রম ও কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন বার্তা

ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল

ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পুনর্গঠন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দেশ এক ধরনের “ধ্বংসস্তূপে” পরিণত হয়েছে, সেখান থেকে রাষ্ট্রকে টেনে তোলাই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

‘যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখন পুনর্গঠনের সময়’

বক্তব্যের শুরুতেই দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা একটি কঠিন রাজনৈতিক লড়াই শেষ করে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, সেই সংগ্রাম ছিল “দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রকে রক্ষার যুদ্ধ”।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে। তবে সরকারে আসার পর বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মির্জা ফখরুল বলেন, “যেদিকেই তাকানো হচ্ছে, সেখানেই সংকট। অর্থনীতি থেকে প্রশাসন—সবখানেই অস্থিরতা ও ঘাটতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে শুধু দল নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।”

তৃণমূলকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান মনে রেখে দলকে আরও সংগঠিত করতে হবে।

তিনি তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে রাজনীতি করতে হবে। জনগণ যেন মনে না করে তারা আবারও দূরে সরে যাচ্ছে।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তার ভাষায়, “দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নির্বাচনী সাফল্য অর্জনে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ছিল বড় শক্তি।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য শুধু রাজনৈতিক বিজয় যথেষ্ট নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপও জরুরি হয়ে উঠেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

বেলা পৌনে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন চাপ

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নতুন সরকারের সামনে থাকা বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো। অর্থনৈতিক চাপ, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনসেবার মান—সবকিছু মিলিয়ে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে এবং এজন্য দলীয় ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সামনে কী?

সভা থেকে মূলত দুটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—একদিকে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার আহ্বান, অন্যদিকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরা। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কত দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসই নির্ধারণ করবে নতুন প্রশাসনের সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থার জায়গা কতটা শক্তিশালী হয়।

বিষয় : মির্জা ফখরুল বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতি বিএনপি সরকার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পুনর্গঠন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দেশ এক ধরনের “ধ্বংসস্তূপে” পরিণত হয়েছে, সেখান থেকে রাষ্ট্রকে টেনে তোলাই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

‘যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখন পুনর্গঠনের সময়’

বক্তব্যের শুরুতেই দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা একটি কঠিন রাজনৈতিক লড়াই শেষ করে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, সেই সংগ্রাম ছিল “দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রকে রক্ষার যুদ্ধ”।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে। তবে সরকারে আসার পর বাস্তব পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মির্জা ফখরুল বলেন, “যেদিকেই তাকানো হচ্ছে, সেখানেই সংকট। অর্থনীতি থেকে প্রশাসন—সবখানেই অস্থিরতা ও ঘাটতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে শুধু দল নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।”

তৃণমূলকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান মনে রেখে দলকে আরও সংগঠিত করতে হবে।

তিনি তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে রাজনীতি করতে হবে। জনগণ যেন মনে না করে তারা আবারও দূরে সরে যাচ্ছে।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তার ভাষায়, “দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নির্বাচনী সাফল্য অর্জনে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ছিল বড় শক্তি।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য শুধু রাজনৈতিক বিজয় যথেষ্ট নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপও জরুরি হয়ে উঠেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

বেলা পৌনে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন চাপ

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নতুন সরকারের সামনে থাকা বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো। অর্থনৈতিক চাপ, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনসেবার মান—সবকিছু মিলিয়ে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে এবং এজন্য দলীয় ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সামনে কী?

সভা থেকে মূলত দুটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—একদিকে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার আহ্বান, অন্যদিকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরা। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কত দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসই নির্ধারণ করবে নতুন প্রশাসনের সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থার জায়গা কতটা শক্তিশালী হয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর