দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন: মাজার জিয়ারত থেকে উন্নয়ন প্রকল্প—একদিনে বহুমুখী কর্মসূচি

সিলেট সফরে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—রাজনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। মাজার জিয়ারত, উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, নদী পুনঃখনন এবং ক্রীড়া উদ্যোগ উদ্বোধন—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময়সূচি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।সকালেই সিলেটে আগমনশনিবার (০২ মে) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি যাবেন হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার-এ, যেখানে জিয়ারত ও মোনাজাতের মাধ্যমে সফরের সূচনা করবেন।মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:955]জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্পের সূচনামাজার জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউজ সংলগ্ন চাঁদনী ঘাট এলাকায় যাবেন। সেখানে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নেওয়া জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। যদি এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তাহলে অনেকটা স্বস্তি মিলবে।”তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু মহলের মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে নেওয়া কিছু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বাইশা নদী পুনঃখনন: পরিবেশ ও কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশাদুপুরে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বাইশা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিচ্ছিল।একজন কৃষক জানান, “নদীতে পানি না থাকায় আমাদের জমিতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুনঃখনন হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।”বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী পুনঃখনন শুধু কৃষি নয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প টেকসই হয় না—এমন মন্তব্যও রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:963]‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’: তরুণদের জন্য নতুন দিগন্তবিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে শিশু-কিশোরদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা।ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রাম-গঞ্জের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অনেক সময় সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। এই উদ্যোগ তাদের সামনে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।একজন স্থানীয় কোচ বলেন, “যদি নিয়মিতভাবে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে ভালো খেলোয়াড় পাওয়া সহজ হবে।”সুধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমদিনের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:945]এই সমাবেশে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনা, তরুণদের ভূমিকা এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ববিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে সরকার প্রধান হিসেবে এটি তার প্রথম সফর।এ সফরের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—ঘোষিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চাপ বাড়বে।প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সড়ক মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো সফর নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।তবে কিছু স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, হঠাৎ করে সাজসজ্জা বাড়ানো হলেও দীর্ঘমেয়াদে এসব উদ্যোগ টেকসই হয় না। তাদের মতে, “শুধু সফর ঘিরে নয়, নিয়মিতভাবেই উন্নয়ন কার্যক্রম চালু রাখা উচিত।”উপসংহারসব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর ঘিরে উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনস্বার্থ—তিনটি দিকই সামনে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী পুনঃখনন ও ক্রীড়া উন্নয়নের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেটের মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এই সফরের ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন: মাজার জিয়ারত থেকে উন্নয়ন প্রকল্প—একদিনে বহুমুখী কর্মসূচি