দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ? কিয়েভ ছাড়ছেন মার্কিন কূটনীতিক জুলি ডেভিস

ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ? কিয়েভ ছাড়ছেন মার্কিন কূটনীতিক জুলি ডেভিস

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা তীব্র, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে; ঝুঁকিতে অন্তত পাঁচ জেলা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কড়া বার্তা: ট্রাম্পের পাশে রাজা চার্লস

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও জামায়াত প্রসঙ্গে সংসদে তুমুল বিতর্ক

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়: রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি ভরা শুরু

মাদক ও জলদস্যু দমনে আরও শক্তিশালী হবে কোস্ট গার্ড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তারেক রহমানের হাতে যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ শুরু, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশা

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদপত্র কর্মচারী ও প্রেস শ্রমিকদের বৈঠক, একাধিক দাবি উত্থাপন

ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ? কিয়েভ ছাড়ছেন মার্কিন কূটনীতিক জুলি ডেভিস

ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ? কিয়েভ ছাড়ছেন মার্কিন কূটনীতিক জুলি ডেভিস
-ফাইল ফটো

ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগের খবর। কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জুলি ডেভিস শিগগিরই দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন—এমন তথ্য সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন উঠেছে ওয়াশিংটন ও কিয়েভে।

গত বছরের মে মাস থেকে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিস সম্প্রতি তার বিদায়ের কথা স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছেন। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত কারণ নাকি নীতিগত মতবিরোধ—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউক্রেনকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার বিষয় নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে ডেভিসের মতবিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে তিনি নিজ দায়িত্ব নিয়ে হতাশ ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি।

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডেভিস ট্রাম্প প্রশাসনের ইউক্রেন নীতির একজন দৃঢ় সমর্থক এবং জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একজন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“কিয়েভে কাজ করা সবসময়ই চাপের। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আর কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।”

ডেভিসের এই বিদায় একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার আগেও ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক পদত্যাগ করেছিলেন। তিনিও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এরও আগে ২০১৯ সালে মেরি ইয়োভানোভিচকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলে গত কয়েক বছরে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিশেষ করে যখন রাশিয়া নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই ঘটনার পর কয়েক সপ্তাহের জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত রাখা হয়।

এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনপন্থী কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। একজন বর্তমান কর্মকর্তা বলেন,
“যুদ্ধের সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অনেক ক্ষেত্রে পাশ কাটিয়ে বিশেষ দূত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের প্রবণতা বেড়েছে।

এর ফলে অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ভূমিকা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে ক্যারিয়ার কূটনীতিকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পোল্যান্ডে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ফ্রিড বলেন,
“ডেভিসের মতো কর্মকর্তারা প্রকৃত বিশেষজ্ঞ। তাদের অভিজ্ঞতা যে কোনো প্রশাসনের জন্য মূল্যবান।”

ডেভিসের বিদায়ের ফলে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউক্রেনে কোনো সিনেট অনুমোদিত রাষ্ট্রদূত নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় ওয়াশিংটন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জিন শাহিন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,
“কিয়েভের মতো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট অস্থায়ীভাবে পরিচালনা করা উচিত নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।”

ডেভিস একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন বিষয়ে অভিজ্ঞ অনেক মার্কিন কূটনীতিক অবসর নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জর্জ কেন্ট এবং ডেভিড হোমসের মতো কর্মকর্তারা।

একজন বিশ্লেষক বলেন,
“নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই সরে যাচ্ছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক দক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে কিয়েভে একজন স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক নেতৃত্বের স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে যখন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

এদিকে ডেভিসের পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইউক্রেন যুদ্ধের এই জটিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন জুলি ডেভিসের বিদায়।

বিষয় : মতবিরোধ মার্কিন কূটনীতিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ? কিয়েভ ছাড়ছেন মার্কিন কূটনীতিক জুলি ডেভিস

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগের খবর। কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জুলি ডেভিস শিগগিরই দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন—এমন তথ্য সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন উঠেছে ওয়াশিংটন ও কিয়েভে।

গত বছরের মে মাস থেকে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিস সম্প্রতি তার বিদায়ের কথা স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছেন। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত কারণ নাকি নীতিগত মতবিরোধ—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউক্রেনকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার বিষয় নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে ডেভিসের মতবিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে তিনি নিজ দায়িত্ব নিয়ে হতাশ ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি।

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডেভিস ট্রাম্প প্রশাসনের ইউক্রেন নীতির একজন দৃঢ় সমর্থক এবং জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একজন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“কিয়েভে কাজ করা সবসময়ই চাপের। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আর কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।”

ডেভিসের এই বিদায় একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার আগেও ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক পদত্যাগ করেছিলেন। তিনিও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এরও আগে ২০১৯ সালে মেরি ইয়োভানোভিচকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলে গত কয়েক বছরে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিশেষ করে যখন রাশিয়া নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই ঘটনার পর কয়েক সপ্তাহের জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত রাখা হয়।

এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনপন্থী কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। একজন বর্তমান কর্মকর্তা বলেন,
“যুদ্ধের সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অনেক ক্ষেত্রে পাশ কাটিয়ে বিশেষ দূত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের প্রবণতা বেড়েছে।

এর ফলে অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ভূমিকা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে ক্যারিয়ার কূটনীতিকের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পোল্যান্ডে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল ফ্রিড বলেন,
“ডেভিসের মতো কর্মকর্তারা প্রকৃত বিশেষজ্ঞ। তাদের অভিজ্ঞতা যে কোনো প্রশাসনের জন্য মূল্যবান।”

ডেভিসের বিদায়ের ফলে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউক্রেনে কোনো সিনেট অনুমোদিত রাষ্ট্রদূত নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অনেক সময় ওয়াশিংটন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জিন শাহিন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,
“কিয়েভের মতো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট অস্থায়ীভাবে পরিচালনা করা উচিত নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।”

ডেভিস একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন বিষয়ে অভিজ্ঞ অনেক মার্কিন কূটনীতিক অবসর নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জর্জ কেন্ট এবং ডেভিড হোমসের মতো কর্মকর্তারা।

একজন বিশ্লেষক বলেন,
“নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই সরে যাচ্ছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক দক্ষতায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে কিয়েভে একজন স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক নেতৃত্বের স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে যখন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

এদিকে ডেভিসের পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইউক্রেন যুদ্ধের এই জটিল সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন জুলি ডেভিসের বিদায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর