রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনীতে রূপ দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোস্ট গার্ড এখন দেশের মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। মাদক চোরাচালান রোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, জলদস্যু দমন এবং পরিবেশ রক্ষায় বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নও করা হবে, যাতে এই বাহিনী আরও দক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা নদীভাঙনের সময় এই বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের জীবন বাঁচায়। বিশেষ করে সুন্দরবন ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল দেয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড বাহিনী গঠন করেন। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাহিনীটি ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং এখন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক তার বক্তব্যে বলেন, নদীপথে অপরাধ দমনে বাহিনীর ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। গত এক বছরে তারা কয়েকশ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এসব অভিযান দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, কোস্ট গার্ডে এখনো জনবল সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে বাহিনীটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। নদীপথের নিরাপত্তা, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তখন আরও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় কোস্ট গার্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রয়েছে বিশাল উপকূলীয় এলাকা, যেখানে প্রায়ই মাদক পাচার, অবৈধ মাছ ধরা এবং জলদস্যুতার ঘটনা ঘটে। অতীতে সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা ছিল বড় একটি সমস্যা। তবে গত কয়েক বছরে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস। তাই এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। কোস্ট গার্ড সেই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিদিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাহাজ এবং পর্যাপ্ত জনবল থাকলে কোস্ট গার্ড আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা গেলে সমুদ্র ও নদীপথে অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের এই উদ্যোগ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনীতে রূপ দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোস্ট গার্ড এখন দেশের মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। মাদক চোরাচালান রোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, জলদস্যু দমন এবং পরিবেশ রক্ষায় বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নও করা হবে, যাতে এই বাহিনী আরও দক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা নদীভাঙনের সময় এই বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের জীবন বাঁচায়। বিশেষ করে সুন্দরবন ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল দেয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড বাহিনী গঠন করেন। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাহিনীটি ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং এখন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক তার বক্তব্যে বলেন, নদীপথে অপরাধ দমনে বাহিনীর ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। গত এক বছরে তারা কয়েকশ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। এসব অভিযান দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, কোস্ট গার্ডে এখনো জনবল সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে বাহিনীটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। নদীপথের নিরাপত্তা, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তখন আরও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় কোস্ট গার্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রয়েছে বিশাল উপকূলীয় এলাকা, যেখানে প্রায়ই মাদক পাচার, অবৈধ মাছ ধরা এবং জলদস্যুতার ঘটনা ঘটে। অতীতে সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা ছিল বড় একটি সমস্যা। তবে গত কয়েক বছরে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে এসব কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস। তাই এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। কোস্ট গার্ড সেই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিদিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাহাজ এবং পর্যাপ্ত জনবল থাকলে কোস্ট গার্ড আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা গেলে সমুদ্র ও নদীপথে অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোস্ট গার্ডকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের এই উদ্যোগ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন