নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে রাকিব ওরফে অ্যাংকো (২৩) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় তারা জানতে পারে, বাঁশগাড়ী এলাকার চরমধনা গ্রামে একটি বাড়িতে অস্ত্রসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
পরে নরসিংদী জেলা পুলিশের নির্দেশনায় এবং রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। ওই টিম সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে মো. আক্তার মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় খাটের নিচে রাখা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল তিনটি কাঠের বাঁটযুক্ত ওয়ান শ্যুটারগান, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি, দুটি সাদা রঙের সিসা কার্তুজ এবং একটি নীল রঙের সিসা কার্তুজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নতুন করে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, চরাঞ্চলে অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব এলাকায় মাঝে মধ্যেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দেখা যায়, যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই অভিযানের ফলে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
সব দিক বিবেচনায়, পুলিশের এই অভিযানটি এলাকায় অপরাধ দমনে একটি কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে রাকিব ওরফে অ্যাংকো (২৩) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় তারা জানতে পারে, বাঁশগাড়ী এলাকার চরমধনা গ্রামে একটি বাড়িতে অস্ত্রসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
পরে নরসিংদী জেলা পুলিশের নির্দেশনায় এবং রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। ওই টিম সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে মো. আক্তার মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় খাটের নিচে রাখা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল তিনটি কাঠের বাঁটযুক্ত ওয়ান শ্যুটারগান, পিস্তলের চার রাউন্ড গুলি, দুটি সাদা রঙের সিসা কার্তুজ এবং একটি নীল রঙের সিসা কার্তুজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নতুন করে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, চরাঞ্চলে অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব এলাকায় মাঝে মধ্যেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দেখা যায়, যা স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই অভিযানের ফলে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
সব দিক বিবেচনায়, পুলিশের এই অভিযানটি এলাকায় অপরাধ দমনে একটি কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন