যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে বৈশাখী মেলা কনসার্ট। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে এই আয়োজন ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও তারকারা অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা প্রবাসীদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এই বৈশাখী আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা জায়েদ খান। তাদের সঙ্গে আরও থাকবেন সংগীতশিল্পী পারভেজ সাজ্জাদ এবং বিন্দু কনা। ফলে গান, বিনোদন এবং তারকাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
দেশি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন ওকলাহোমার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটি মূলত প্রবাসে বসবাসরত তরুণ বাংলাদেশিদের একত্রিত করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বিদেশের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে বৈশাখী কনসার্ট আয়োজন করছে।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তার জন্য গর্বের। তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা সবসময় তাকে অনুপ্রাণিত করে। ওকলাহোমায় এই প্রথম বৈশাখী মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। দর্শকদের সঙ্গে একটি আনন্দঘন সময় কাটানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে সামিনা চৌধুরীর অংশগ্রহণও এই কনসার্টকে বিশেষ মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা গানের জগতে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। তার কণ্ঠে পুরোনো ও নতুন গানের মিশেলে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কনসার্টে শুধু গান নয়, থাকবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাচ, কবিতা, এবং বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর করে তোলা হবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করার মতো পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি বছরই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেন। নিউইয়র্ক, টেক্সাস কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জায়গায় এ ধরনের আয়োজন বেশ পরিচিত হলেও ওকলাহোমায় এত বড় পরিসরে বৈশাখী মেলা আয়োজন এই প্রথম। ফলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির অনুষ্ঠানগুলোর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রজন্মকে নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি বা স্বাধীনতা দিবসের মতো অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ওকলাহোমার এই বৈশাখী মেলা কনসার্ট শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা। তারকাদের অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা এবং প্রবাসীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে বৈশাখী মেলা কনসার্ট। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে এই আয়োজন ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও তারকারা অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা প্রবাসীদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এই বৈশাখী আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা জায়েদ খান। তাদের সঙ্গে আরও থাকবেন সংগীতশিল্পী পারভেজ সাজ্জাদ এবং বিন্দু কনা। ফলে গান, বিনোদন এবং তারকাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
দেশি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন ওকলাহোমার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটি মূলত প্রবাসে বসবাসরত তরুণ বাংলাদেশিদের একত্রিত করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বিদেশের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে বৈশাখী কনসার্ট আয়োজন করছে।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তার জন্য গর্বের। তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা সবসময় তাকে অনুপ্রাণিত করে। ওকলাহোমায় এই প্রথম বৈশাখী মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। দর্শকদের সঙ্গে একটি আনন্দঘন সময় কাটানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে সামিনা চৌধুরীর অংশগ্রহণও এই কনসার্টকে বিশেষ মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা গানের জগতে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। তার কণ্ঠে পুরোনো ও নতুন গানের মিশেলে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কনসার্টে শুধু গান নয়, থাকবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাচ, কবিতা, এবং বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর করে তোলা হবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করার মতো পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি বছরই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেন। নিউইয়র্ক, টেক্সাস কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো জায়গায় এ ধরনের আয়োজন বেশ পরিচিত হলেও ওকলাহোমায় এত বড় পরিসরে বৈশাখী মেলা আয়োজন এই প্রথম। ফলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির অনুষ্ঠানগুলোর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। নতুন প্রজন্মকে নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি বা স্বাধীনতা দিবসের মতো অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ওকলাহোমার এই বৈশাখী মেলা কনসার্ট শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি সংস্কৃতি ও আবেগের এক মিলনমেলা। তারকাদের অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা এবং প্রবাসীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন