প্রায় দুই দশক পর গাজায় আবার ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা স্থানীয় সরকার গঠনের জন্য ভোট দিচ্ছেন—যা অনেকের কাছে আশা জাগানিয়া, আবার অনেকের কাছে প্রতীকী উদ্যোগ।
শনিবার সকালে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এখানে প্রায় ৭০ হাজার ভোটারের জন্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ২০ বছর পর এই প্রথম গাজায় কোনো নির্বাচন হচ্ছে, যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ নয়—বরং একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পুরো গাজা এখনো যুদ্ধের ক্ষত থেকে বের হতে পারেনি।
দেইর আল-বালাহকে বেছে নেওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গাজার অনেক এলাকা ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই শহর তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংস হয়েছে। তাই এখানেই প্রথম ভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ভোট চলছে। সেখানে প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটার স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন করছেন। এসব পরিষদ মূলত পানি সরবরাহ, সড়ক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎসহ দৈনন্দিন নাগরিক সেবার দায়িত্ব পালন করে। ফলে এই নির্বাচন সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
তবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি হচ্ছে কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচন না হওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে চায়।
এই নির্বাচনে একটি বড় বিষয় হলো—হামাসের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নেই। যদিও গাজার অনেক অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে, তবুও তারা কোনো প্রার্থী দেয়নি। অধিকাংশ জায়গায় ফাতাহপন্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য পশ্চিম তীর ও গাজাকে রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে রাখা। তবে বাস্তবতা হলো, ভোট আয়োজন করতে গিয়ে তারা নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এমনকি গাজায় সরাসরি ব্যালট পেপার বা ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোও সম্ভব হয়নি। বিকল্প উপায়ে পুরো প্রক্রিয়া চালাতে হয়েছে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর ফিলিস্তিনে বড় রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়। পরের বছর গাজার নিয়ন্ত্রণ তারা নিজেদের হাতে নেয়। তখন থেকেই গাজা ও পশ্চিম তীর আলাদা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চলে আসছে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচন প্রায় বন্ধই হয়ে যায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের কিছু অংশে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো অঞ্চলটির বড় অংশ সরাসরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এই নির্বাচনের পরিধি ও কার্যকারিতাকে সীমিত করে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা এটিকে কঠিন সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন আসা কঠিন।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন নয়—বরং একটি সংকেত। সংকটের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ধরে রাখতে চায়। যদিও সামনে পথ এখনো কঠিন, তবুও এই ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে রাখতে পারে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রায় দুই দশক পর গাজায় আবার ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা স্থানীয় সরকার গঠনের জন্য ভোট দিচ্ছেন—যা অনেকের কাছে আশা জাগানিয়া, আবার অনেকের কাছে প্রতীকী উদ্যোগ।
শনিবার সকালে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এখানে প্রায় ৭০ হাজার ভোটারের জন্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ২০ বছর পর এই প্রথম গাজায় কোনো নির্বাচন হচ্ছে, যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ নয়—বরং একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পুরো গাজা এখনো যুদ্ধের ক্ষত থেকে বের হতে পারেনি।
দেইর আল-বালাহকে বেছে নেওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গাজার অনেক এলাকা ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই শহর তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংস হয়েছে। তাই এখানেই প্রথম ভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ভোট চলছে। সেখানে প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটার স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন করছেন। এসব পরিষদ মূলত পানি সরবরাহ, সড়ক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎসহ দৈনন্দিন নাগরিক সেবার দায়িত্ব পালন করে। ফলে এই নির্বাচন সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
তবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি হচ্ছে কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচন না হওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে চায়।
এই নির্বাচনে একটি বড় বিষয় হলো—হামাসের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নেই। যদিও গাজার অনেক অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে, তবুও তারা কোনো প্রার্থী দেয়নি। অধিকাংশ জায়গায় ফাতাহপন্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য পশ্চিম তীর ও গাজাকে রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে রাখা। তবে বাস্তবতা হলো, ভোট আয়োজন করতে গিয়ে তারা নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এমনকি গাজায় সরাসরি ব্যালট পেপার বা ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোও সম্ভব হয়নি। বিকল্প উপায়ে পুরো প্রক্রিয়া চালাতে হয়েছে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস জয়ী হওয়ার পর ফিলিস্তিনে বড় রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়। পরের বছর গাজার নিয়ন্ত্রণ তারা নিজেদের হাতে নেয়। তখন থেকেই গাজা ও পশ্চিম তীর আলাদা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চলে আসছে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচন প্রায় বন্ধই হয়ে যায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের কিছু অংশে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো অঞ্চলটির বড় অংশ সরাসরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এই নির্বাচনের পরিধি ও কার্যকারিতাকে সীমিত করে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা এটিকে কঠিন সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন আসা কঠিন।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন নয়—বরং একটি সংকেত। সংকটের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ধরে রাখতে চায়। যদিও সামনে পথ এখনো কঠিন, তবুও এই ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন