ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড শিবিরেও চলছে প্রস্তুতি, আর সেই প্রস্তুতির মাঝেই বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে নিয়ে এসেছে বিশেষ আলোচনা।
চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইশ সোধি সরাসরি রিশাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রিশাদ একজন মেধাবী বোলার, যার মধ্যে রয়েছে ভিন্নধর্মী দক্ষতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন হলেও খুব দ্রুত উন্নতি করছে এই তরুণ। সোধির মতে, শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তা ধরে রাখতে পারলে সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে তার।
রিশাদের বোলিং স্টাইল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোধি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণত এশিয়ার লেগ স্পিনাররা নিচু এবং দ্রুতগতির ডেলিভারিতে অভ্যস্ত। কিন্তু রিশাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। সে বল থেকে ভালো বাউন্স আদায় করতে পারে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই ধরনের বৈশিষ্ট্য এ অঞ্চলে খুব বেশি দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড দলের জন্য বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন প্রতিপক্ষ—এ কথাও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন সোধি। ২০১৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করে তিনি বলেন, তখনকার দল আর এখনকার দলের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এখন বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী। নতুন অনেক ক্রিকেটার দলে এলেও তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করতে শুরু করেছে।
ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ কিউই ব্যাটসম্যানদের বেশ ভুগিয়েছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোধি বলেন, মুস্তাফিজের বিপক্ষে আগেও খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে সামলানোর পরিকল্পনা করা যায়। কিন্তু নতুন বোলারদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তাদের সম্পর্কে আগাম ধারণা কম থাকে। এই অজানা চ্যালেঞ্জটাই নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
আগামী সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল, আর শেষ ম্যাচটি হবে ঢাকায় ২ মে। ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থেকেই টি২০ সিরিজ শুরু করবে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ তাদের ঘরের মাঠে অনেক বড় বড় দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। স্পিন সহায়ক উইকেট এবং স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দল হলেও উপমহাদেশের কন্ডিশনে তাদের পারফরম্যান্স সবসময় সমান থাকে না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ম্যাচের গতি খুব দ্রুত বদলে যায়। এখানে একজন বোলারের একটি ভালো স্পেল কিংবা একজন ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ইনিংস পুরো ম্যাচের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই জায়গাতেই রিশাদের মতো নতুন এবং বৈচিত্র্যময় বোলাররা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সব মিলিয়ে আসন্ন টি২০ সিরিজটি হতে যাচ্ছে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ, অন্যদিকে নিজেদের মান প্রমাণে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। রিশাদ হোসেনকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি পুরো সিরিজেই নজর থাকবে দুই দলের নতুন-পুরোনো তারকাদের পারফরম্যান্সের দিকে। এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড শিবিরেও চলছে প্রস্তুতি, আর সেই প্রস্তুতির মাঝেই বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে নিয়ে এসেছে বিশেষ আলোচনা।
চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইশ সোধি সরাসরি রিশাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রিশাদ একজন মেধাবী বোলার, যার মধ্যে রয়েছে ভিন্নধর্মী দক্ষতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন হলেও খুব দ্রুত উন্নতি করছে এই তরুণ। সোধির মতে, শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তা ধরে রাখতে পারলে সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে তার।
রিশাদের বোলিং স্টাইল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোধি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণত এশিয়ার লেগ স্পিনাররা নিচু এবং দ্রুতগতির ডেলিভারিতে অভ্যস্ত। কিন্তু রিশাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। সে বল থেকে ভালো বাউন্স আদায় করতে পারে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই ধরনের বৈশিষ্ট্য এ অঞ্চলে খুব বেশি দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড দলের জন্য বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন প্রতিপক্ষ—এ কথাও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন সোধি। ২০১৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করে তিনি বলেন, তখনকার দল আর এখনকার দলের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এখন বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী। নতুন অনেক ক্রিকেটার দলে এলেও তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করতে শুরু করেছে।
ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ কিউই ব্যাটসম্যানদের বেশ ভুগিয়েছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোধি বলেন, মুস্তাফিজের বিপক্ষে আগেও খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে সামলানোর পরিকল্পনা করা যায়। কিন্তু নতুন বোলারদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তাদের সম্পর্কে আগাম ধারণা কম থাকে। এই অজানা চ্যালেঞ্জটাই নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
আগামী সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল, আর শেষ ম্যাচটি হবে ঢাকায় ২ মে। ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থেকেই টি২০ সিরিজ শুরু করবে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ তাদের ঘরের মাঠে অনেক বড় বড় দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। স্পিন সহায়ক উইকেট এবং স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দল হলেও উপমহাদেশের কন্ডিশনে তাদের পারফরম্যান্স সবসময় সমান থাকে না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ম্যাচের গতি খুব দ্রুত বদলে যায়। এখানে একজন বোলারের একটি ভালো স্পেল কিংবা একজন ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ইনিংস পুরো ম্যাচের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই জায়গাতেই রিশাদের মতো নতুন এবং বৈচিত্র্যময় বোলাররা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সব মিলিয়ে আসন্ন টি২০ সিরিজটি হতে যাচ্ছে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ, অন্যদিকে নিজেদের মান প্রমাণে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড। রিশাদ হোসেনকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি পুরো সিরিজেই নজর থাকবে দুই দলের নতুন-পুরোনো তারকাদের পারফরম্যান্সের দিকে। এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন