২০১৩ সালের বহুল আলোচিত শাপলা চত্বর অভিযানের ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। তদন্ত শেষ হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বিষয়টি সামনে আসতেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বহু বছর আগের সেই বিতর্কিত অভিযান। বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা-এর ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, ওই সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর একটি বড় সমাবেশ চলছিল। ওই সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “কারা কারা আসামি হতে যাচ্ছেন, তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে তৎকালীন শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা তথ্য পাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিল এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে। সেই সময় ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বহু বছর ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত একটি বিশেষ আদালত। স্বাধীনতার সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার দিয়ে এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বছর পর এই ঘটনার নতুন করে তদন্ত এগোনো হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের বিষয়ে নতুন আশা পেতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, শাপলা চত্বর অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে নতুন এই অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আবারও আলোচনা তৈরি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বোঝা যাবে এই মামলার পরবর্তী ধাপ কোন দিকে এগোবে এবং কারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
২০১৩ সালের বহুল আলোচিত শাপলা চত্বর অভিযানের ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন। তদন্ত শেষ হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বিষয়টি সামনে আসতেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বহু বছর আগের সেই বিতর্কিত অভিযান। বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা-এর ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, ওই সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর একটি বড় সমাবেশ চলছিল। ওই সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “কারা কারা আসামি হতে যাচ্ছেন, তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে তৎকালীন শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা তথ্য পাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিল এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে। সেই সময় ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বহু বছর ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য গঠিত একটি বিশেষ আদালত। স্বাধীনতার সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার দিয়ে এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বছর পর এই ঘটনার নতুন করে তদন্ত এগোনো হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের বিষয়ে নতুন আশা পেতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, শাপলা চত্বর অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে নতুন এই অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আবারও আলোচনা তৈরি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বোঝা যাবে এই মামলার পরবর্তী ধাপ কোন দিকে এগোবে এবং কারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন