বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার প্রথমেই নতুন আইজিপিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। পরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, মানি লন্ডারিং মোকাবিলা, ভিসা জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ভুয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন তিনি। বর্তমান বিশ্বে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা খুবই জরুরি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির যুক্তরাজ্যের এই সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু পরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়ানো এবং জনগণের আস্থা আরও শক্ত করা। তিনি আরও বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কাজে লাগতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গেও আগে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত দক্ষতা, সন্ত্রাস দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করেছে দেশটি। ফলে নতুন করে এই সহযোগিতার আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্যোগে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ যেমন অনলাইন জালিয়াতি, আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও নথি জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় এসব বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পথে যুক্তরাজ্যের এই সহযোগিতার প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার প্রথমেই নতুন আইজিপিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। পরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, মানি লন্ডারিং মোকাবিলা, ভিসা জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ভুয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন তিনি। বর্তমান বিশ্বে সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা খুবই জরুরি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির যুক্তরাজ্যের এই সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু পরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়ানো এবং জনগণের আস্থা আরও শক্ত করা। তিনি আরও বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কাজে লাগতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গেও আগে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত দক্ষতা, সন্ত্রাস দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধে যৌথভাবে কাজ করেছে দেশটি। ফলে নতুন করে এই সহযোগিতার আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্যোগে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ যেমন অনলাইন জালিয়াতি, আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও নথি জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় এসব বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পথে যুক্তরাজ্যের এই সহযোগিতার প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন