জাতীয় সংসদে প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বক্তব্যে ভুল স্বীকার করে তা সংশোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া এক বক্তব্যের পর তিনি নিজেই তা ঠিক করে দেন, যা সংসদে উপস্থিত সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে সরকারের কোনো গাইডলাইন আছে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রশ্নের জবাবে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু প্রাইভেট স্কুলগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই তারা নিজেদের মতো করে শিক্ষক নিয়োগের নিয়ম ঠিক করতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা থাকলেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নকারী এমপিকে বলেন, এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ থাকলে সরকার তা বিবেচনা করবে।
তবে কিছুক্ষণ পর অন্য এক এমপির প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের আগের বক্তব্য নিয়ে সংশোধনী আনেন। তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বলেন, প্রাইভেট স্কুলে গাইডলাইন নেই—এভাবে বলা ঠিক হয়নি। বরং সরকারের একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন আছে, যার ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমি একটু ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলাম। প্রাইভেট স্কুলগুলোর জন্য সরকারের একটি গাইডলাইন অবশ্যই আছে।” তিনি আরও জানান, যদি কোনো সংসদ সদস্য এই গাইডলাইন নিয়ে নতুন কিছু প্রস্তাব দিতে চান, তাহলে তা নোটিশ আকারে আনলে সরকার সেটি পর্যালোচনা করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী তার সম্পূরক প্রশ্নে দাবি করেন, গত ১৭ বছরে প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো গাইডলাইন বাস্তবে দেখা যায়নি। এ কারণে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, সেটিও তিনি জানতে চান।
বাংলাদেশে প্রাইভেট স্কুল বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনেক বড়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। সরকার সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্নতা দেখা যায়—এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে।
অতীতে বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ এসেছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। তাই সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন ওঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সংশোধন করাকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, সংসদে এই ঘটনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর, সেটি নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সংশোধনী বক্তব্য ভবিষ্যতে এ খাতে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন