যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সোমবার (দুপুর ১২টার দিকে) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকার বাসিন্দা এবং লতিফ মোল্লার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ জুলাই যৌতুকের দাবিতে রাশেদ মোল্লা তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৭ জুলাই নিহতের ভাই জলিল শেখ কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।
এ বিষয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মূলত নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা, যৌতুকজনিত নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ দ্রুত বিচার করার জন্য গঠন করা হয়েছে। এসব আদালত সাধারণ আদালতের তুলনায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে থাকে। যদিও আইন অনুযায়ী যৌতুক নেওয়া ও দেওয়া—দুটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তবুও সচেতনতার অভাব ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ পায় না। তাই এমন রায় সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেয় যে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে আদালতের এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তিই নয়, বরং নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আইনের কঠোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সোমবার (দুপুর ১২টার দিকে) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ মোল্লা সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকার বাসিন্দা এবং লতিফ মোল্লার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ জুলাই যৌতুকের দাবিতে রাশেদ মোল্লা তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৭ জুলাই নিহতের ভাই জলিল শেখ কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।
এ বিষয়ে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এমন নৃশংস ঘটনা কোনো সুস্থ সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মূলত নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা, যৌতুকজনিত নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ দ্রুত বিচার করার জন্য গঠন করা হয়েছে। এসব আদালত সাধারণ আদালতের তুলনায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে থাকে। যদিও আইন অনুযায়ী যৌতুক নেওয়া ও দেওয়া—দুটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তবুও সচেতনতার অভাব ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ পায় না। তাই এমন রায় সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেয় যে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে আদালতের এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তিই নয়, বরং নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আইনের কঠোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন