দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১৮ জনের শরীরে হাম কিংবা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল এবং একজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের বাইরে উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়া সংক্রমণ পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭ হাজার ৩০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক এলাকায় পরীক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ১৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর চাপ এখনও অনেক বেশি। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট তৈরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কিছু হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে অস্থায়ী বেডের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “অনেক শিশুকে জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা হাম পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা বলছেন, নিয়মিত টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কিছু অভিভাবক শুরুতে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রোগ জটিল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে গণসচেতনতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুল বা জনসমাগমে পাঠানো নিয়েও শঙ্কায় আছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, বরং দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি।
তারা বলছেন, স্কুলভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, টিকাবঞ্চিত শিশুদের তালিকা তৈরি এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছালেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব। অভিভাবকদেরও শিশুদের উপসর্গকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১৮ জনের শরীরে হাম কিংবা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল এবং একজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের বাইরে উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়া সংক্রমণ পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭ হাজার ৩০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক এলাকায় পরীক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ১৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর চাপ এখনও অনেক বেশি। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট তৈরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। কিছু হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে অস্থায়ী বেডের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “অনেক শিশুকে জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা হাম পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা বলছেন, নিয়মিত টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কিছু অভিভাবক শুরুতে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রোগ জটিল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে গণসচেতনতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুল বা জনসমাগমে পাঠানো নিয়েও শঙ্কায় আছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, বরং দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি।
তারা বলছেন, স্কুলভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, টিকাবঞ্চিত শিশুদের তালিকা তৈরি এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছালেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব। অভিভাবকদেরও শিশুদের উপসর্গকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন