কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মো. হানিফ মিয়া নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে ফোন করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স-মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং কাঠের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লস্কর মিয়া (৪৫), হেলেনা বেগম (৪০), জীবন মিয়া (২৫), নাদিয়া আক্তার (২০) ও রুকিয়া বেগম (৫০)। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে ধরতে অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লস্কর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো খোঁজ পাননি।
একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে কল করেন। পরিবারের দাবি, ফোনে তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
এই ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তবে অভিযুক্তদের বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
রাতেই স্থানীয় লোকজন ও এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে খোঁজ শুরু হয়। পরে লস্কর মিয়ার বাড়ির অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি পতিত ধানখেত থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যার পর শ্বাসরোধ করা হয়েছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্ত্রী আয়েশা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সকালে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ অভিযুক্ত লস্কর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তারা বলছেন, এলাকায় মাদক কারবার ও ছোটখাটো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা আলোচনা ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং এলাকায় মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ তারা।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শুক্রবার গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে বাড়ি থেকে কাউকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর এভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তাদের নাড়া দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছোটখাটো বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, সেটি উদ্বেগের বিষয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে একজন মানুষ সাহায্যের জন্য ফোন করল, কিন্তু তাকে বাঁচানো গেল না—এটা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার।”
আরেকজনের ভাষ্য, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সেগুলো নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধ, মাদক কারবার ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ঘটনা থেকেও বড় সংঘর্ষ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগ তৈরি করছে, যেমন এই ঘটনার পর অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগগুলো আগে থেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখলে অনেক সহিংস ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
হানিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পুরো এলাকার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। অন্যদিকে স্থানীয়রাও চান, প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মো. হানিফ মিয়া নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে ফোন করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স-মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং কাঠের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লস্কর মিয়া (৪৫), হেলেনা বেগম (৪০), জীবন মিয়া (২৫), নাদিয়া আক্তার (২০) ও রুকিয়া বেগম (৫০)। তবে মামলার আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে ধরতে অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লস্কর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো খোঁজ পাননি।
একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে কল করেন। পরিবারের দাবি, ফোনে তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
এই ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। তবে অভিযুক্তদের বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
রাতেই স্থানীয় লোকজন ও এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে খোঁজ শুরু হয়। পরে লস্কর মিয়ার বাড়ির অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি পতিত ধানখেত থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যার পর শ্বাসরোধ করা হয়েছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের স্ত্রী আয়েশা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সকালে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ অভিযুক্ত লস্কর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তারা বলছেন, এলাকায় মাদক কারবার ও ছোটখাটো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা আলোচনা ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং এলাকায় মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ তারা।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরীফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শুক্রবার গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে বাড়ি থেকে কাউকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর এভাবে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তাদের নাড়া দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছোটখাটো বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, সেটি উদ্বেগের বিষয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে একজন মানুষ সাহায্যের জন্য ফোন করল, কিন্তু তাকে বাঁচানো গেল না—এটা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার।”
আরেকজনের ভাষ্য, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সেগুলো নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধ, মাদক কারবার ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ঘটনা থেকেও বড় সংঘর্ষ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগ তৈরি করছে, যেমন এই ঘটনার পর অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগগুলো আগে থেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখলে অনেক সহিংস ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
হানিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পুরো এলাকার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। অন্যদিকে স্থানীয়রাও চান, প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন