যশোরের কোতোয়ালি থানার বিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বুধবার দুপুরে পরিচালিত অভিযানে রবিউল ইসলাম নামে ওই নেতার কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিরামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক লেনদেন ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসির সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আটকের পর ঘটনাস্থলে কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় আলোচনা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে খুব কম মানুষই কথা বলতে সাহস পেতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে ছিল। অনেকেই অভিযোগ করলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইত না।”
তবে রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রবিউল ইসলামের আটকের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা জানিয়েছেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
তার এই বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রবিউলের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিরামপুর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
একজন অভিভাবক বলেন, “মাদক এখন তরুণদের জন্য বড় হুমকি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হলে সমাজ উপকৃত হবে।”
তবে মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়াও জরুরি। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তারা মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজ অর্থের প্রলোভনে এসব চক্রে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।
এছাড়া রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে আইনের বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বর্তমানে আটক রবিউল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে এই ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
যশোরের কোতোয়ালি থানার বিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বুধবার দুপুরে পরিচালিত অভিযানে রবিউল ইসলাম নামে ওই নেতার কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিরামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক লেনদেন ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসির সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আটকের পর ঘটনাস্থলে কিছু সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় আলোচনা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে খুব কম মানুষই কথা বলতে সাহস পেতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে ছিল। অনেকেই অভিযোগ করলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইত না।”
তবে রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রবিউল ইসলামের আটকের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা জানিয়েছেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
তার এই বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রবিউলের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিরামপুর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
একজন অভিভাবক বলেন, “মাদক এখন তরুণদের জন্য বড় হুমকি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হলে সমাজ উপকৃত হবে।”
তবে মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়াও জরুরি। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তারা মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজ অর্থের প্রলোভনে এসব চক্রে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।
এছাড়া রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে আইনের বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বর্তমানে আটক রবিউল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে এই ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

আপনার মতামত লিখুন