নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে মান্দা থানার কয়া পাড়া কামারকুড়ি প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন হাসেন আলী (১৯)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীনগর এলাকার বাসিন্দা এবং এজাজুল হকের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ওই এলাকায় ফেন্সিডিল নিয়ে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে ডিবির একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। বিকেল প্রায় ৫টার দিকে অভিযানে গেলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে তল্লাশি চালান। এ সময় তার পিঠে ঝোলানো একটি ব্যাগ থেকে ২০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সামনেই উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ রয়েছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক কারবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
তবে এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাদক প্রবেশ করায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিল কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি পরিবার ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও জরুরি। তা না হলে শুধু অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মাদক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে আটক ব্যক্তিকে মান্দা থানার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে মান্দা থানার কয়া পাড়া কামারকুড়ি প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন হাসেন আলী (১৯)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীনগর এলাকার বাসিন্দা এবং এজাজুল হকের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ওই এলাকায় ফেন্সিডিল নিয়ে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে ডিবির একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। বিকেল প্রায় ৫টার দিকে অভিযানে গেলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে তল্লাশি চালান। এ সময় তার পিঠে ঝোলানো একটি ব্যাগ থেকে ২০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সামনেই উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ রয়েছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদক কারবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
তবে এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন উপায়ে মাদক প্রবেশ করায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিল কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি পরিবার ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও জরুরি। তা না হলে শুধু অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মাদক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে আটক ব্যক্তিকে মান্দা থানার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন