দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

রাণীনগরে অনলাইন জুয়ার অভিযোগে ফার্মেসি মালিক আটক, মোবাইলে মিলল লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য

গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির বড় অভিযান: প্রায় ৯ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য জব্দ

শেরপুরের নকলায় ভূসির বস্তার আড়ালে বিদেশি মদ, পিকআপ থেকে ১০৮ বোতল জব্দ; আটক ৩

শেরপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জোর

যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ায় চাপে ট্রাম্প, ইরান ইস্যুতে খুঁজছেন ‘সম্মানজনক প্রস্থান

ইরাকের মরুভূমিতে ‘গোপন ইসরায়েলি ঘাঁটি’ নিয়ে তোলপাড়, সূত্রের দাবি—মেষপালকের তথ্যেই ফাঁস

লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ
ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে লালমাইয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দোকানে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার যুক্তিখোলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এনায়েত উল্যাহ নামে এক ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দোকানে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তিখোলা ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বাজারের একটি মোবাইল ও বিকাশের দোকানে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তাকে অনৈতিকভাবে স্পর্শ ও নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে যুক্তিখোলা বাজারের মসজিদ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “এনায়েত টেলিকম” নামের একটি দোকানে। অভিযুক্ত এনায়েত উল্যাহ পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা দোকানে গিয়ে খোঁজ নেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ

ঘটনার খবর দ্রুত মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে তারা অভিযুক্তের দোকানের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে লাকসাম-বাঙ্গড্ডা সড়কেও যান চলাচলে প্রভাব পড়ে।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। স্থানীয় অনেক অভিভাবকও এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, ভুক্তভোগীকে নেওয়া হয় চিকিৎসায়

খবর পেয়ে ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও লালমাই থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে কিছু সময় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল।

অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের অভিযান

বিকেল ৪টার দিকে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে দ্রুত অভিযান চালানোর আশ্বাস দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ওসি নুরুজ্জামান বলেন, “অভিযুক্তকে আটকের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ

ঘটনার পর পুরো যুক্তিখোলা বাজার এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, এমন অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কিশোরী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি।


তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা

ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

পুলিশ বলছে, অভিযোগের সব দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : মাদ্রাসাছাত্রী নিপীড়ন অভিযোগ কুমিল্লা বিক্ষোভ লালমাই থানা যুক্তিখোলা বাজার লালমাই সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দোকানে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার যুক্তিখোলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এনায়েত উল্যাহ নামে এক ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দোকানে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তিখোলা ফাজিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বাজারের একটি মোবাইল ও বিকাশের দোকানে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তাকে অনৈতিকভাবে স্পর্শ ও নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে যুক্তিখোলা বাজারের মসজিদ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “এনায়েত টেলিকম” নামের একটি দোকানে। অভিযুক্ত এনায়েত উল্যাহ পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা দোকানে গিয়ে খোঁজ নেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ

ঘটনার খবর দ্রুত মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে তারা অভিযুক্তের দোকানের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে লাকসাম-বাঙ্গড্ডা সড়কেও যান চলাচলে প্রভাব পড়ে।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। স্থানীয় অনেক অভিভাবকও এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, ভুক্তভোগীকে নেওয়া হয় চিকিৎসায়

খবর পেয়ে ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও লালমাই থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে কিছু সময় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল।

অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের অভিযান

বিকেল ৪টার দিকে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে দ্রুত অভিযান চালানোর আশ্বাস দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দেয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ওসি নুরুজ্জামান বলেন, “অভিযুক্তকে আটকের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ

ঘটনার পর পুরো যুক্তিখোলা বাজার এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, এমন অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কিশোরী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি।


তদন্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা

ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

পুলিশ বলছে, অভিযোগের সব দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর