রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করলেন ফখরুল
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকেই কাজ করছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘অপরাজনীতি’ এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ফখরুল বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার দাবি, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ২১৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও এই নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
তবে এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসা’—এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ফখরুল বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু অযৌক্তিকই নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু কিছু পক্ষ সেই সুযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে উদ্দেশ্য হতে পারে দেশকে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের দিকে ঠেলে দেওয়া।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, একটি ‘অশুভ শক্তি’ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ছাত্রসমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার এবং কোনো ধরনের উসকানিতে না জড়ানোর আহ্বান জানান।
মে দিবসকে সামনে রেখে বিএনপির কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ফখরুল। তিনি জানান, রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই সমাবেশকে শুধু শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন হিসেবেও দেখছে দলটি।
সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের এই দিবস যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা যায়। ফখরুল বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে মে দিবস দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো এই দিনটিকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার জন্যও ব্যবহার করে। বিশেষ করে বড় দলগুলো এই দিনে সমাবেশ ও কর্মসূচির মাধ্যমে জনসমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করে থাকে।
অন্যদিকে, দেশের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিতর্ক, অভিযোগ এবং উত্তেজনা দেখা গেছে। এসব পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বর্তমান অগ্রযাত্রাকে কোনো ষড়যন্ত্র থামাতে পারবে না। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, বিভ্রান্তি ও গুজবের বিরুদ্ধে সচেতন থাকলেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা—দুইই এখন সময়ের দাবি।