দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নোটিফিকেশন সংক্রান্ত নিয়ম ঠিকভাবে মানা এখন সময়ের দাবি। সোমবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে “ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস” শীর্ষক চার দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে অংশ নিতে হলে ডব্লিউটিওর নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জানা এবং সেগুলো নিয়মিত হালনাগাদ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ডব্লিউটিওতে নোটিফিকেশন জমা দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া, যা দেশের বাণিজ্য নীতি, ভর্তুকি, আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে জানাতে সাহায্য করে।[TECHTARANGA-POST:920] তিনি আরও বলেন, নোটিফিকেশন ঠিকভাবে না দিলে অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে এবং বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে দক্ষ করে তোলার বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মত দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, এখানে যা শেখা হচ্ছে তা বাস্তব কাজে লাগাতে হবে। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা কী শিখলেন এবং তা কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটিই হবে এই উদ্যোগের আসল সাফল্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়গুলো এখন অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয় ছাড়া এসব বিষয় সামাল দেওয়া কঠিন। এই ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণ সেই সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।[TECHTARANGA-POST:904] অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডব্লিউটিও সংক্রান্ত জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ডব্লিউটিও’র বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ডব্লিউটিওর নিয়ম মানা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি এটি একটি বড় সুযোগও। সঠিকভাবে নিয়ম মানলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হয় এবং নতুন বাণিজ্য সুযোগ তৈরি হয়। পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল কাজ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করা। বাংলাদেশ ১৯৯৫ সাল থেকেই এই সংস্থার সদস্য এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা পেতে ডব্লিউটিওর নিয়ম মেনে চলছে।[TECHTARANGA-POST:917] বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নানা পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক বৃদ্ধি, এবং সরবরাহ চেইনের পরিবর্তনের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নিয়ম সম্পর্কে আপডেট থাকা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক স্থবিরতা কাটিয়ে ডব্লিউটিও আবারও নতুন উদ্যমে কার্যক্রম চালাবে। এতে সদস্য দেশগুলো আরও বেশি সুযোগ পাবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। সবশেষে বলা যায়, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টরা যদি এখানে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারেন, তবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরলেন বাণিজ্যমন্ত্রী