টোকিও পৌঁছাল এনসিপি প্রতিনিধিদল, প্রবাসীদের সঙ্গে ব্যস্ত কর্মসূচি
জাপানের রাজধানী Tokyo-তে পৌঁছেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে তারা নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর বিমানবন্দরে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ফুল দিয়ে দলীয় নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।এই সফরটি এনসিপির সাম্প্রতিক বিদেশ সফর কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দলটির শীর্ষ নেতারা মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষ করেন। ধারাবাহিক এই বিদেশ সফরগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।প্রতিনিধিদলটি বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের উদ্দেশে রওনা দেয়। সফরকারী দলে রয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম।এনসিপির এই সফরে জাপানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর Osaka-তেও বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টোকিও ও ওসাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে পৃথক সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারা। এসব অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন এনসিপি নেতারা। ওই বৈঠকে প্রবাসীদের নানা সমস্যা, বিশেষ করে কনস্যুলার সেবা, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই ধারাবাহিক বিদেশ সফর দলটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর জাপান সফরকে তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি সংগঠনগতভাবে নিজেদের নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দলের নেতারা বলছেন, প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাদের সমস্যাগুলো জানা ও তুলে ধরা তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।অন্যদিকে জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দেশটিতে হাজারো বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন এবং পড়াশোনা করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে।এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির জাপান সফরকে অনেকে শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, বরং প্রবাসী সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সমস্যা শোনা এবং তাদের সঙ্গে একটি কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা।
সব মিলিয়ে জাপানে এনসিপি প্রতিনিধিদলের এই সফর রাজনৈতিক ও প্রবাসী দুই অঙ্গনেই আগ্রহ তৈরি করেছে। আগামী কয়েক দিনের কর্মসূচি শেষে এই সফর থেকে কী ধরনের রাজনৈতিক বার্তা বা ফলাফল আসে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।