কড়াইল বস্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ চালু, উদ্বোধনে ডা. জুবাইদা রহমান
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা জোরদার করতে ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, বস্তি এলাকায় বসবাসকারী প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের নিয়মিত পরিচর্যা এবং উন্নয়নমূলক সহায়তা নিশ্চিত করাই এই মডেলের মূল উদ্দেশ্য।উদ্বোধনের আগে স্টল পরিদর্শনঅনুষ্ঠান শুরুর আগে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সাজানো বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সেখানে শিক্ষাসামগ্রী, পুনর্বাসন সহায়ক উপকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব উপকরণ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দৈনন্দিন শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করবে।[TECHTARANGA-POST:1223]অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, রাজধানীর বস্তি এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কার্যক্রম নিয়মিত চালু থাকলে অনেক পরিবার বাস্তব উপকার পাবে।স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের কথাঅনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা শিশুদের মূলধারায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা গেলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তারা প্রত্যেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সেমিনারে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ কর্মসূচিকে ঘিরে আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া।[TECHTARANGA-POST:1183]এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।বস্তি এলাকার শিশুদের নিয়ে নতুন আলোচনাসামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর বস্তি এলাকায় বসবাসকারী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে সচরাচর বড় পরিসরে আলোচনা হয় না। স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, পুনর্বাসন এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় এসব শিশু নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে বড় হয়। ফলে ‘শিশু স্বর্গ মডেল’-এর মতো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হলে তা সামাজিক বৈষম্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।[TECHTARANGA-POST:1190]তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত তদারকি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে এমন উদ্যোগ অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিতআয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবারগুলোকেও সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। উপস্থিত অনেকেই এটিকে বস্তি এলাকার শিশুদের জন্য ইতিবাচক একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।