দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

খুলনায় বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, রেলিগেট মোড়ে নেমে এলো শোকের ছায়া

খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক দম্পতি। বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। মুহূর্তেই ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, তৈরি হয়েছে উত্তেজনাও।দুর্ঘটনাটি যেখানে ঘটলমঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খুলনা নগরীর রেলিগেট মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যস্ত এই সড়কটি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে যানবাহনের চাপ থাকে।স্থানীয়রা জানান, ওই সময় সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল চলছিল। হঠাৎ করেই ভয়াবহ এই সংঘর্ষ ঘটে যায়।[TECHTARANGA-POST:1116]ঘটনাস্থলেই মৃত্যু দম্পতিরনিহতরা হলেন তানভীর হাসান ও তার স্ত্রী লামিয়া বেগম। তারা খুলনা নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।[TECHTARANGA-POST:1116]কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনাপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি রয়েল পরিবহন বাস রেলিগেট মোড় অতিক্রম করছিল।ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহীরা রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষ ছুটে এসে পরিস্থিতি দেখতে পান। স্থানীয়দের ভাষায়, মুহূর্তেই পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়।একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “একটা বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। এসে দেখি দুজন মানুষ রাস্তায় পড়ে আছেন। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।”পুলিশের উদ্ধার ও পরবর্তী ব্যবস্থাখবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নিয়ে স্থানীয় অভিযোগরেলিগেট মোড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই মোড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তাদের মতে, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগবাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা বেশি দেখা যায়।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং চালকদের অসচেতনতা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নএই দুর্ঘটনার পর আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়।”[TECHTARANGA-POST:1103]উপসংহারএকটি মুহূর্তের অসতর্কতা যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, খুলনার এই দুর্ঘটনা তারই করুণ উদাহরণ। তানভীর ও লামিয়ার মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষকেই শোকাহত করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা—দ্রুত তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং সড়কে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।

খুলনায় বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, রেলিগেট মোড়ে নেমে এলো শোকের ছায়া