ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, উত্তেজনা আরও বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে
[TECHTARANGA-POST:1069]ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।পশ্চিম জেরুজালেমে হামলার দাবিপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে তেহরান।ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক অভিযান, যা তাদের নৌবাহিনী ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।“ডেনা” জাহাজ ও প্রতিশোধের ঘোষণাইরানের সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-এর নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অনিশ্চয়তাতবে এই হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।পটভূমি: নৌঘাঁটি ও উত্তেজনা বৃদ্ধিএর আগে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ “আইআরআইএস ডেনা”-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান।ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের একটি সামরিক মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ওই জাহাজটি হামলার শিকার হয় এবং এতে ৮০ জনের বেশি নৌসদস্য নিহত হন।এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।ইসমাইল খতিব হত্যার অভিযোগঅন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান।এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হুমকি-ধমকি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কাবিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ড্রোন হামলা, নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।আন্তর্জাতিক উদ্বেগআন্তর্জাতিক মহল বলছে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।উপসংহার
সব মিলিয়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন আরও সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।