দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ

পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ

মান্দায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ‘শীর্ষ মাদক কারবারি

কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান দমনে অভিযান, মিললো গোলাবারুদ ও অস্ত্র

দুর্গাপুরে রাতের অভিযানে দুই যুবক গ্রেপ্তার, উদ্ধার ভারতীয় মদ

যশোরে পৌঁছে ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান, একাধিক কর্মসূচি উদ্বোধন

কালবৈশাখী ঝড়ে নয়ানগরে মর্মান্তিক মৃত্যু, মা ও দুই মেয়ের প্রাণহানি

ঢাকাসহ ৫ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়তে পারে দুর্ভোগ

নওগাঁয় বাসশ্রমিক-অটোচালক দ্বন্দ্বে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ

পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ
-ফাইল ফটো

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ৯নং ছোট বিঘাই ইউনিয়নের অফিসের বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ করে লাগা এই আগুনে বাজারের একাধিক দোকান পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, অনেকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুন ছোট আকারে থাকলেও দ্রুত তা পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি দোকান দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।

ঘটনার সময় অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নিজের চোখের সামনে দোকান পুড়তে দেখা ছাড়া তাদের কিছু করার ছিল না। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ এসব দোকানই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।

স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বালতি দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে স্থানীয়দের মতে কয়েক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এই বাজারটি ছোট বিঘাই ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। আশপাশের গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এই বাজারেই আসেন। ফলে এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশের অনেক স্থানীয় বাজারেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা শক্তিশালী নয়। বেশিরভাগ দোকানই টিন বা কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বৈদ্যুতিক লাইনের অব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত সংযোগও অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইনের পরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ছোট বিঘাই ইউনিয়নের এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয়দের মনে গভীর দাগ ফেলেছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : পটুয়াখালীর বিঘাইয়ে আগুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ৯নং ছোট বিঘাই ইউনিয়নের অফিসের বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ করে লাগা এই আগুনে বাজারের একাধিক দোকান পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, অনেকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুন ছোট আকারে থাকলেও দ্রুত তা পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি দোকান দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।

ঘটনার সময় অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নিজের চোখের সামনে দোকান পুড়তে দেখা ছাড়া তাদের কিছু করার ছিল না। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ এসব দোকানই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।

স্থানীয়রা প্রথমে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বালতি দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে স্থানীয়দের মতে কয়েক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এই বাজারটি ছোট বিঘাই ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। আশপাশের গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এই বাজারেই আসেন। ফলে এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশের অনেক স্থানীয় বাজারেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা শক্তিশালী নয়। বেশিরভাগ দোকানই টিন বা কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন লাগলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বৈদ্যুতিক লাইনের অব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত সংযোগও অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইনের পরীক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ছোট বিঘাই ইউনিয়নের এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয়দের মনে গভীর দাগ ফেলেছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর