দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি: মুগদা হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ প্রতিনিধি সমস্যা

চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি: মুগদা হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ প্রতিনিধি সমস্যা

পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়ার থাবা, এখনো ঝুঁকিতে সীমান্ত অঞ্চল

স্বাস্থ্য সচেতনতায় হোমিওপ্যাথির ভূমিকা: বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে

শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: রাণীনগরে ভেজাল জুস কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: একদিনে ১,২২৯ নতুন সন্দেহভাজন রোগী

ঢামেক নিউরোসার্জারিতে অপারেশনের অপেক্ষায় ৩০০ রোগী, শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ ভর্তি

হাম পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ, এক মাসে আক্রান্ত ২৪ হাজারের বেশি

সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান

চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি: মুগদা হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ প্রতিনিধি সমস্যা

 চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি: মুগদা হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ প্রতিনিধি সমস্যা
-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাপট যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিয়ম-কানুন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ না থাকায় সাধারণ রোগীরা প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো হয়রানির মুখে পড়ছেন অনেকেই।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই চোখে পড়ে ভিড়ের অস্বাভাবিক চিত্র। রোগীদের চেয়ে বেশি দেখা যায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—দুপুর ২টার পর তাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকেই তারা হাসপাতালে ঢুকে পড়ছেন।

এতে করে রোগী দেখার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় রোগী দেখার মাঝেই প্রতিনিধিরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। ফলে চিকিৎসকদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে অসুস্থ মানুষদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় রোগী চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর। হাসপাতালের করিডর বা গেটের সামনে কয়েকজন প্রতিনিধি একসঙ্গে রোগীদের ঘিরে ধরেন। অনেক সময় তারা রোগীর প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলেন। এই আচরণে রোগীরা চরম অস্বস্তিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এটি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসা শেষে বের হওয়ার পর যদি কয়েকজন মিলে প্রেসক্রিপশন নিতে চায়, তখন তা অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপমানজনক লাগে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—চিকিৎসক কোন ওষুধ লিখেছেন, তা দেখার অধিকার এসব প্রতিনিধিদের কেন থাকবে?

হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই অনেক সময় এসব ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতিনিধিদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানান, নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করা থাকলেও প্রতিনিধিরা নানা অজুহাতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। কখনো রোগীর স্বজন পরিচয়ে, আবার কখনো অন্যভাবে ঢুকে পড়েন। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হলেও পরে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিকিৎসা সেবা যেন ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক হাসপাতালেই এই নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয় না।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধ কোম্পানির প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকলেও তা যেন রোগীদের অসুবিধার কারণ না হয়—এটাই নীতিমালার মূল কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর ব্যত্যয় ঘটছে বলেই অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার সমাধানে কঠোর নজরদারি ও নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ জরুরি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি রোগীদেরও সচেতন হতে হবে—কেউ জোর করে প্রেসক্রিপশন নিতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও অভিযোগ করা দরকার।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন বড় একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : চিকিৎসা হয়রানি নিয়ন্ত্রণহীন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি: মুগদা হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধ প্রতিনিধি সমস্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দাপট যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিয়ম-কানুন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ না থাকায় সাধারণ রোগীরা প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো হয়রানির মুখে পড়ছেন অনেকেই।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই চোখে পড়ে ভিড়ের অস্বাভাবিক চিত্র। রোগীদের চেয়ে বেশি দেখা যায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে থাকেন। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—দুপুর ২টার পর তাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকেই তারা হাসপাতালে ঢুকে পড়ছেন।

এতে করে রোগী দেখার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় রোগী দেখার মাঝেই প্রতিনিধিরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। ফলে চিকিৎসকদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে এবং রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে অসুস্থ মানুষদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় রোগী চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর। হাসপাতালের করিডর বা গেটের সামনে কয়েকজন প্রতিনিধি একসঙ্গে রোগীদের ঘিরে ধরেন। অনেক সময় তারা রোগীর প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলেন। এই আচরণে রোগীরা চরম অস্বস্তিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এটি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসা শেষে বের হওয়ার পর যদি কয়েকজন মিলে প্রেসক্রিপশন নিতে চায়, তখন তা অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপমানজনক লাগে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—চিকিৎসক কোন ওষুধ লিখেছেন, তা দেখার অধিকার এসব প্রতিনিধিদের কেন থাকবে?

হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই অনেক সময় এসব ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতিনিধিদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানান, নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করা থাকলেও প্রতিনিধিরা নানা অজুহাতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। কখনো রোগীর স্বজন পরিচয়ে, আবার কখনো অন্যভাবে ঢুকে পড়েন। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হলেও পরে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিকিৎসা সেবা যেন ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক হাসপাতালেই এই নিয়ম ঠিকভাবে মানা হয় না।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরেই ওষুধ কোম্পানির প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকলেও তা যেন রোগীদের অসুবিধার কারণ না হয়—এটাই নীতিমালার মূল কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর ব্যত্যয় ঘটছে বলেই অভিযোগ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার সমাধানে কঠোর নজরদারি ও নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ জরুরি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি রোগীদেরও সচেতন হতে হবে—কেউ জোর করে প্রেসক্রিপশন নিতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও অভিযোগ করা দরকার।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এখন বড় একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর