দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, টিকা সংকটে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, টিকা সংকটে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

লোডশেডিং কমার আশা কবে? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির ইঙ্গিত

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কতা জোরদার

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নতুন করে শুরু হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ

শাহবাগ উত্তেজনার জেরে আটক শিবির নেতাদের মুক্তি, ভোরে ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাদিক কায়েম

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: নিরাপত্তা বদলেছে, কিন্তু বিচার অপেক্ষায়

ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানালেন সেনাপ্রধান

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নতুন করে শুরু হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নতুন করে শুরু হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ
-ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তার এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনাকে আবার শুরু করার চেষ্টা চলছে। ফলে এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাকে স্বাগত জানান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই উষ্ণ অভ্যর্থনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের সময় আরাগচি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে মূলত বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। ইসলামাবাদ ইতোমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আরাগচির সফরকে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই বৈঠক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি সংলাপের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশে থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি এবং তা ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই নতুন করে আলোচনার পথ খোঁজা হচ্ছিল।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িয়ে দেন। এতে কিছুটা হলেও উত্তেজনা কমে আসে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে দেশটি বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তারা সেই একই ভূমিকা রাখতে চাইছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাগচির এই সফর শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং এটি একটি বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং তা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

বিষয় : ইসলামাবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, -ওয়াশিংটন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নতুন করে শুরু হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তার এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনাকে আবার শুরু করার চেষ্টা চলছে। ফলে এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাকে স্বাগত জানান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই উষ্ণ অভ্যর্থনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের সময় আরাগচি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে মূলত বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। ইসলামাবাদ ইতোমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আরাগচির সফরকে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই বৈঠক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি সংলাপের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশে থাকলেও পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে গত ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি এবং তা ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই নতুন করে আলোচনার পথ খোঁজা হচ্ছিল।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িয়ে দেন। এতে কিছুটা হলেও উত্তেজনা কমে আসে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে দেশটি বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তারা সেই একই ভূমিকা রাখতে চাইছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাগচির এই সফর শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; বরং এটি একটি বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং তা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর