দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

শাহবাগ উত্তেজনার জেরে আটক শিবির নেতাদের মুক্তি, ভোরে ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাদিক কায়েম

শাহবাগ উত্তেজনার জেরে আটক শিবির নেতাদের মুক্তি, ভোরে ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাদিক কায়েম

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: নিরাপত্তা বদলেছে, কিন্তু বিচার অপেক্ষায়

ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানালেন সেনাপ্রধান

রাজাপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে গিয়ে প্রস্থ কম পেলেন ইউএনও

সংসদে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ: সেলিমা রহমান

পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণে আজ চূড়ান্ত বৈঠক, কী বলছেন মন্ত্রী

নারী আসনে এনসিপির মনোনয়ন জটিলতা: আপিলের পথে দল, যা বললেন আসিফ মাহমুদ

ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ

ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ
-ছবি: সংগৃহীত

ওমান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে নিরাপদে বন্দরে পৌঁছেছে একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটের নিরাপত্তা পাহারায় জাহাজটি অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়—এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Fars News এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চালবাহী জাহাজটিকে মার্কিন বাহিনীর কব্জা থেকে রক্ষা করতে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। জাহাজটি Gulf of Oman এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মার্কিন বাহিনী তা আটকের চেষ্টা করে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর নৌ ইউনিট। তাদের উপস্থিতির কারণেই জাহাজটি কোনো বাধা ছাড়াই অবরুদ্ধ পথ পেরিয়ে বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে, United States Navy–এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে নজর কাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে United States ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কার্যত অবরোধমূলক নজরদারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে Iran। এর ফলে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবরোধের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Strait of Hormuz বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো সামরিক বা কৌশলগত উত্তেজনা দ্রুত বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে একাধিকবার এই এলাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ আটক, ড্রোন নজরদারি এবং সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি শুধু একটি জাহাজ নিরাপদে পৌঁছানোর বিষয় নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, তখন এমন প্রতিটি ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি সংঘাতমুখী হয়ে ওঠেনি। উভয় পক্ষই সরাসরি বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। ফলে এই ঘটনাকে আপাতত একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, সে বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয় : ওমান এড়িয়ে পাহারায়

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ওমান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে নিরাপদে বন্দরে পৌঁছেছে একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটের নিরাপত্তা পাহারায় জাহাজটি অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়—এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Fars News এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চালবাহী জাহাজটিকে মার্কিন বাহিনীর কব্জা থেকে রক্ষা করতে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। জাহাজটি Gulf of Oman এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মার্কিন বাহিনী তা আটকের চেষ্টা করে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর নৌ ইউনিট। তাদের উপস্থিতির কারণেই জাহাজটি কোনো বাধা ছাড়াই অবরুদ্ধ পথ পেরিয়ে বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে, United States Navy–এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে নজর কাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে United States ইরানের বন্দরগুলোর ওপর কার্যত অবরোধমূলক নজরদারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে Iran। এর ফলে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবরোধের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Strait of Hormuz বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো সামরিক বা কৌশলগত উত্তেজনা দ্রুত বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে একাধিকবার এই এলাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ আটক, ড্রোন নজরদারি এবং সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি শুধু একটি জাহাজ নিরাপদে পৌঁছানোর বিষয় নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, তখন এমন প্রতিটি ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি সংঘাতমুখী হয়ে ওঠেনি। উভয় পক্ষই সরাসরি বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। ফলে এই ঘটনাকে আপাতত একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, সে বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর