দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

স্মার্ট কৃষিতে বড় পরিকল্পনা: কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা

স্মার্ট কৃষিতে বড় পরিকল্পনা: কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা

সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না: মালিক সমিতির কঠোর নির্দেশ

সিটি কলেজে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নিউ মার্কেট এলাকা, চাপাতির কোপে শিক্ষার্থীর পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন

সংবাদপত্র শিল্পের সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস, তিন মাস পরপর বৈঠকের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার কথা তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ

ঢাকাসহ ৯ জেলায় গরমের তীব্রতা বাড়ছে, নতুন এলাকায় ছড়ানোর শঙ্কা

দেশের কয়েক অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীপথে সতর্ক থাকতে নির্দেশ

স্মার্ট কৃষিতে বড় পরিকল্পনা: কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা

স্মার্ট কৃষিতে বড় পরিকল্পনা: কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা
-ছবি: সংগৃহীত

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাবেন।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়া, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা গ্রহণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা এবং কৃষি বীমার মতো সেবা পাবেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ এবং কৃষি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপারের মতো আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজে পাওয়ার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে “ক্রপ জোনিং” পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোন এলাকায় কোন ফসল ভালো হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এতে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বাড়ে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি ও চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

ধান নির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে এসে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।

কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বীমা চালুর উদ্যোগও রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। 

কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কৃষি গবেষণায়ও বাড়ানো হয়েছে গুরুত্ব। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে নতুন উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল ফসল উদ্ভাবনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি” এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে কৃষি খাতকে আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যেই সরকার ধাপে ধাপে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


স্মার্ট কৃষিতে বড় পরিকল্পনা: কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে ১০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাবেন।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়া, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা গ্রহণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা এবং কৃষি বীমার মতো সেবা পাবেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ এবং কৃষি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপারের মতো আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজে পাওয়ার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে “ক্রপ জোনিং” পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোন এলাকায় কোন ফসল ভালো হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এতে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বাড়ে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি ও চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

ধান নির্ভর কৃষি থেকে বেরিয়ে এসে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।

কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বীমা চালুর উদ্যোগও রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। 

কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কৃষি গবেষণায়ও বাড়ানো হয়েছে গুরুত্ব। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে নতুন উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল ফসল উদ্ভাবনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি” এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে কৃষি খাতকে আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যেই সরকার ধাপে ধাপে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর