দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লিটনের স্বস্তির পঞ্চাশ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লিটনের স্বস্তির পঞ্চাশ

চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী লড়াই, আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে বাংলাদেশ

জয়ের প্রভাব র‍্যাঙ্কিংয়ে—তানজিদ এগোলেন ১৪ ধাপ, নাহিদের বড় উত্থান

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

ডোরিয়েল্টনের চার গোল, সৌরভের হ্যাটট্রিকে প্লে-অফে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান

২০২৬ বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেখছেন কাফু

দিল্লির আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড
-ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ পেসার।

সোমবার (২০ এপ্রিল) তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে রান তুলতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানেই থেমে যায় কিউইদের ইনিংস।

ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করেন নাহিদ রানা। দলীয় অষ্টম ওভারে তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংও বেশি সময় টিকতে পারেননি। নাহিদের গতির সামনে তিনিও পরাস্ত হন।

এরপর মিডল অর্ডারেও দাপট দেখান নাহিদ। ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফ্ট ও জেডেন লিনক্সকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। তার এই স্পেলই মূলত নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে লড়াই করেছেন ওপেনার নিক কেলি। তিনি ১০২ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৩ রান করেন। ইনিংসের একমাত্র দৃঢ় প্রতিরোধ ছিল তার ব্যাট থেকেই। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন কেলি। তার আউটের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও ভালো সমর্থন দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। পুরো বোলিং ইউনিট একসঙ্গে পরিকল্পনা মেনে বল করায় কিউই ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বরাবরই স্পিন ও নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এখানে অতীতে অনেক বড় দলই কম রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা এই মাঠের কন্ডিশন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য বড় স্কোর করা কঠিন হয়ে যায়—আজকের ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে নতুনদের উত্থান দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। নাহিদ রানার মতো তরুণ বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। 

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাটিং বিভাগ দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে দলের সামনে।

বিষয় : নাহিদের বাংলায় অলআউট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ পেসার।

সোমবার (২০ এপ্রিল) তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে রান তুলতে দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানেই থেমে যায় কিউইদের ইনিংস।

ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং করেন নাহিদ রানা। দলীয় অষ্টম ওভারে তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংও বেশি সময় টিকতে পারেননি। নাহিদের গতির সামনে তিনিও পরাস্ত হন।

এরপর মিডল অর্ডারেও দাপট দেখান নাহিদ। ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফ্ট ও জেডেন লিনক্সকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। তার এই স্পেলই মূলত নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে লড়াই করেছেন ওপেনার নিক কেলি। তিনি ১০২ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৩ রান করেন। ইনিংসের একমাত্র দৃঢ় প্রতিরোধ ছিল তার ব্যাট থেকেই। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন কেলি। তার আউটের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের অন্য বোলাররাও ভালো সমর্থন দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার ও রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। পুরো বোলিং ইউনিট একসঙ্গে পরিকল্পনা মেনে বল করায় কিউই ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বরাবরই স্পিন ও নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এখানে অতীতে অনেক বড় দলই কম রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা এই মাঠের কন্ডিশন ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য বড় স্কোর করা কঠিন হয়ে যায়—আজকের ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে নতুনদের উত্থান দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। নাহিদ রানার মতো তরুণ বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। 

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাটিং বিভাগ দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে দলের সামনে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর