মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই Washington, D.C.-তে মুখোমুখি বসেছেন Israel ও Lebanon-এর শীর্ষ কূটনীতিকরা। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় পর এই সরাসরি বৈঠক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও, যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে এখনো বড় মতভেদ রয়ে গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio-এর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত Yechiel Leiter এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত Nada Hamadeh Moawad প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। ১৯৯০–এর দশকের পর এটিই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সরাসরি আলোচনার অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পর দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য লেবাননের মাটি থেকে Hezbollah-এর সামরিক উপস্থিতি কমানো বা নির্মূল করা। অন্যদিকে লেবানন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
বর্তমান সংঘাতের বড় প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে Iranকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব লেবানন সীমান্তেও দেখা যায়। এরপর থেকেই সীমান্তে গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও বিমান হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এই বৈঠকে Hezbollah অংশ নেয়নি। বরং তারা এই আলোচনার বিরোধিতা করে উত্তর ইসরায়েলে একাধিক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা কমেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Israel Katz জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের Litani River পর্যন্ত এলাকা নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না। এই অবস্থানকে অনেক বিশ্লেষক লেবাননের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন।
এই যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো Strait of Hormuz। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। যদি এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তাই এই অঞ্চলের উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ইসরায়েল ও লেবাননের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বড় সামরিক অভিযান চালায় এবং এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় সংঘাত চলতে থাকে। সেই ইতিহাসের কারণেই দুই দেশের সরাসরি বৈঠক খুবই বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে ইতোমধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ওয়াশিংটনের এই বৈঠক তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামাতে না পারলেও ভবিষ্যতের আলোচনার একটি দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্যিই কি শান্তির পথে এগোবে, নাকি চলমান সংঘাতই আবার সব সম্ভাবনাকে থামিয়ে দেবে

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই Washington, D.C.-তে মুখোমুখি বসেছেন Israel ও Lebanon-এর শীর্ষ কূটনীতিকরা। প্রায় তিন দশকের বেশি সময় পর এই সরাসরি বৈঠক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও, যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে এখনো বড় মতভেদ রয়ে গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio-এর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত Yechiel Leiter এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত Nada Hamadeh Moawad প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। ১৯৯০–এর দশকের পর এটিই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সরাসরি আলোচনার অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পর দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য লেবাননের মাটি থেকে Hezbollah-এর সামরিক উপস্থিতি কমানো বা নির্মূল করা। অন্যদিকে লেবানন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
বর্তমান সংঘাতের বড় প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে Iranকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব লেবানন সীমান্তেও দেখা যায়। এরপর থেকেই সীমান্তে গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও বিমান হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এই বৈঠকে Hezbollah অংশ নেয়নি। বরং তারা এই আলোচনার বিরোধিতা করে উত্তর ইসরায়েলে একাধিক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা কমেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Israel Katz জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের Litani River পর্যন্ত এলাকা নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না। এই অবস্থানকে অনেক বিশ্লেষক লেবাননের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন।
এই যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো Strait of Hormuz। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। যদি এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তাই এই অঞ্চলের উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ইসরায়েল ও লেবাননের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বড় সামরিক অভিযান চালায় এবং এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় সংঘাত চলতে থাকে। সেই ইতিহাসের কারণেই দুই দেশের সরাসরি বৈঠক খুবই বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননে ইতোমধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ওয়াশিংটনের এই বৈঠক তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামাতে না পারলেও ভবিষ্যতের আলোচনার একটি দরজা খুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্যিই কি শান্তির পথে এগোবে, নাকি চলমান সংঘাতই আবার সব সম্ভাবনাকে থামিয়ে দেবে

আপনার মতামত লিখুন