দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

উৎসবের আনন্দে ভয়াবহতা—থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক

উৎসবের আনন্দে ভয়াবহতা—থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক

সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হবে বিজিবি': মহাপরিচালক

মেঘনা মোহনায় কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযান: যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে ৫ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক পাচারকারী আটক

এসএসসি ২০২৬: নকলমুক্ত পরীক্ষায় কঠোর বার্তা

“শাহজালাল থার্ড টার্মিনালে জাপানের বড় প্রস্তাব: আয়ের ২২.৫% বাংলাদেশকে—তবুও কেন চুক্তি ঝুলে?”

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন

রাস্তা বন্ধ করলে অফিসে আসবেন না: তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ

পাম্প বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই: পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

উৎসবের আনন্দে ভয়াবহতা—থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক

উৎসবের আনন্দে ভয়াবহতা—থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক
-ফাইল ফটো

থাইল্যান্ডে নববর্ষ উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের ছায়ায়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন, আহত হয়েছেন আরও সাত শতাধিক মানুষ। উৎসবের এই সময়টিকে ঘিরে প্রতি বছরই দুর্ঘটনা বাড়লেও এবারের পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক।

মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের রোড সেফটি অপারেশন সেন্টারের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। তারা বলেন, ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নববর্ষ উৎসবের প্রথম চার দিনেই মোট ৭৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫৪ জন নিহত এবং ৭০৫ জন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তাদের মতে, দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং হতাহতের দিক থেকে রাজধানী ব্যাংকক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটিতে মানুষের চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় সড়কগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে নববর্ষ উৎসব, যা স্থানীয়ভাবে ‘সংক্রান’ নামে পরিচিত, সাধারণত ১০ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এই সময়ে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যাতায়াত করে। ফলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এখানে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবছর এই সময়টিকে থাইল্যান্ডে ‘সেভেন ডেঞ্জারাস ডেজ’ বা ‘সাতটি বিপজ্জনক দিন’ বলা হয়। কারণ, এই সময়ে দুর্ঘটনা, আহত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করা—এসব কারণকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রোড সেফটি অপারেশন সেন্টার মূলত এই সময়ে দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ নজরদারি চালায়। তারা বিভিন্ন চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার কাজ করে থাকে। তবুও প্রতি বছর হতাহতের এই সংখ্যা কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিরাপদে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়ানো—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে এই ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।

সব মিলিয়ে, উৎসবের আনন্দ যেন মানুষের জীবনে দুঃখ বয়ে না আনে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্বশীল আচরণই পারে এমন দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


উৎসবের আনন্দে ভয়াবহতা—থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শতাধিক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

থাইল্যান্ডে নববর্ষ উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের ছায়ায়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন, আহত হয়েছেন আরও সাত শতাধিক মানুষ। উৎসবের এই সময়টিকে ঘিরে প্রতি বছরই দুর্ঘটনা বাড়লেও এবারের পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক।

মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের রোড সেফটি অপারেশন সেন্টারের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। তারা বলেন, ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নববর্ষ উৎসবের প্রথম চার দিনেই মোট ৭৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫৪ জন নিহত এবং ৭০৫ জন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তাদের মতে, দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং হতাহতের দিক থেকে রাজধানী ব্যাংকক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটিতে মানুষের চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় সড়কগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে নববর্ষ উৎসব, যা স্থানীয়ভাবে ‘সংক্রান’ নামে পরিচিত, সাধারণত ১০ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এই সময়ে মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যাতায়াত করে। ফলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এখানে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবছর এই সময়টিকে থাইল্যান্ডে ‘সেভেন ডেঞ্জারাস ডেজ’ বা ‘সাতটি বিপজ্জনক দিন’ বলা হয়। কারণ, এই সময়ে দুর্ঘটনা, আহত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করা—এসব কারণকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রোড সেফটি অপারেশন সেন্টার মূলত এই সময়ে দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ নজরদারি চালায়। তারা বিভিন্ন চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার কাজ করে থাকে। তবুও প্রতি বছর হতাহতের এই সংখ্যা কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নিরাপদে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়ানো—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে এই ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।

সব মিলিয়ে, উৎসবের আনন্দ যেন মানুষের জীবনে দুঃখ বয়ে না আনে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্বশীল আচরণই পারে এমন দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর