গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের আটকে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় রাতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের দাবি, সুযোগ বুঝে নির্জন সড়ক বা কম জনসমাগমের স্থানে তাদের ঘিরে ধরে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গলিপথ ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের শিফট শেষে কর্মস্থল থেকে ফেরা শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের পথরোধ করা হয়। এরপর পকেটে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে হামলার শিকার হয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এক পথচারী বলেন, “রাতে রাস্তায় বের হলে এখন ভয় লাগে। কখন কোথায় কারা ঘিরে ধরবে, সেটা বোঝার উপায় নেই।” আরেকজনের ভাষ্য, শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিকদের চলাচলের সময়কে টার্গেট করেই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাগুলোর পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত টহল না থাকায় দুর্বৃত্তরা সহজেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে স্থানীয় তথ্যদাতাদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরে অসংখ্য কারখানা থাকায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক গভীর রাতেও যাতায়াত করেন। তাদের অনেকেই নগদ টাকা সঙ্গে রাখেন। এ কারণে শ্রমজীবী মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার স্বার্থে দলবেঁধে চলাচল শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের আলো ও সিসিটিভি নজরদারি জোরদারের কথাও বলছেন তারা।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পাঞ্চলে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে থাকলে কর্মজীবী মানুষের মানসিক চাপও বাড়ে। এতে রাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতের টহল বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে ঘটনাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আতঙ্ক কাটাতে দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণ মানুষের।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের আটকে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় রাতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের দাবি, সুযোগ বুঝে নির্জন সড়ক বা কম জনসমাগমের স্থানে তাদের ঘিরে ধরে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গলিপথ ও শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় এমন ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের শিফট শেষে কর্মস্থল থেকে ফেরা শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের পথরোধ করা হয়। এরপর পকেটে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে হামলার শিকার হয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এক পথচারী বলেন, “রাতে রাস্তায় বের হলে এখন ভয় লাগে। কখন কোথায় কারা ঘিরে ধরবে, সেটা বোঝার উপায় নেই।” আরেকজনের ভাষ্য, শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিকদের চলাচলের সময়কে টার্গেট করেই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাগুলোর পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত টহল না থাকায় দুর্বৃত্তরা সহজেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে স্থানীয় তথ্যদাতাদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরে অসংখ্য কারখানা থাকায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক গভীর রাতেও যাতায়াত করেন। তাদের অনেকেই নগদ টাকা সঙ্গে রাখেন। এ কারণে শ্রমজীবী মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার স্বার্থে দলবেঁধে চলাচল শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের আলো ও সিসিটিভি নজরদারি জোরদারের কথাও বলছেন তারা।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পাঞ্চলে ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে থাকলে কর্মজীবী মানুষের মানসিক চাপও বাড়ে। এতে রাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতের টহল বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে ঘটনাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আতঙ্ক কাটাতে দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণ মানুষের।

আপনার মতামত লিখুন