টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ভারতীয় তারকা ব্যাটার Virat Kohli। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে সবচেয়ে কম ইনিংসে ১৪ হাজার টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
বুধবার আইপিএল ২০২৬-এর ৫৭তম ম্যাচে Royal Challengers Bengaluru এবং Kolkata Knight Riders মুখোমুখি হলে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন কোহলি। ম্যাচে ব্যক্তিগত ৬১ রান পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে যান ১৪ হাজার টি-টোয়েন্টি রানের অনন্য মাইলফলকে।
বিশ্ব ক্রিকেটে এর আগে মাত্র পাঁচজন ব্যাটার এই রেকর্ড গড়তে পেরেছিলেন। তবে সবচেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর রেকর্ড এখন কোহলির দখলে। এর আগে দ্রুততম ১৪ হাজার রান করার কীর্তি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি Chris Gayle–এর। তিনি ৪২৩ ইনিংসে এই অর্জন করেছিলেন। কোহলি সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন।
ম্যাচটির আগে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ায় সমালোচনার মুখে ছিলেন কোহলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন অনেকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই ব্যাট হাতে জবাব দিলেন ভারতীয় এই ব্যাটার।
১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে ধীরে ধীরে কেকেআরের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তার ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা।
কোহলির এই ইনিংসে ছিল অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে তার ফুটওয়ার্ক এবং গ্যাপ খুঁজে বের করার দক্ষতা আবারও চোখে পড়ে।
কোহলির সঙ্গে দারুণ সমর্থন দেন Devdutt Padikkal। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়ে আরসিবিকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। পাডিক্কাল ৩৯ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেঙ্গালুরুর হাতে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের সহজ জয় পায় আরসিবি। প্লে-অফের লড়াইয়ে এই জয় দলটির জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ম্যাচের সেঞ্চুরিটি ছিল কোহলির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১০ম শতক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে টি-টোয়েন্টির অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, কোহলির সবচেয়ে বড় শক্তি তার ধারাবাহিকতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হোক কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চ— চাপের মুহূর্তে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার মানসিকতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও এখন শীর্ষদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে তার ওপরে রয়েছেন Chris Gayle, Kieron Pollard, Alex Hales, David Warner এবং Jos Buttler।
কোহলির এই ইনিংসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় ওঠে। সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের অনেকে তার ইনিংসকে “চ্যাম্পিয়নের প্রত্যাবর্তন” বলে উল্লেখ করেন। অনেকের মতে, চাপের মুখে যেভাবে তিনি ফিরে আসেন, সেটিই তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।
স্টেডিয়ামেও কোহলির প্রতিটি বাউন্ডারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শতরান পূর্ণ করার পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উদযাপন।
৩৭ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেও কোহলি যেভাবে ফিটনেস ধরে রেখেছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর অনুশীলন ও শৃঙ্খলাবোধই তাকে এত দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকিয়ে রেখেছে।
একসময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে শুধুই পাওয়ার হিটিংয়ের খেলা হিসেবে দেখা হলেও কোহলি দেখিয়েছেন, পরিকল্পিত ব্যাটিং এবং ইনিংস গড়ে খেলার মাধ্যমেও এই সংস্করণে সফল হওয়া সম্ভব।
১৪ হাজার রান পূর্ণ করার পর এখন নতুন রেকর্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন কোহলি ভক্তরা। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে আসতে পারেন তিনি।
আরসিবির জন্যও তার এই ফর্ম বড় স্বস্তির খবর। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারের এমন পারফরম্যান্স শিরোপা লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ভারতীয় তারকা ব্যাটার Virat Kohli। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে সবচেয়ে কম ইনিংসে ১৪ হাজার টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
বুধবার আইপিএল ২০২৬-এর ৫৭তম ম্যাচে Royal Challengers Bengaluru এবং Kolkata Knight Riders মুখোমুখি হলে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন কোহলি। ম্যাচে ব্যক্তিগত ৬১ রান পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছে যান ১৪ হাজার টি-টোয়েন্টি রানের অনন্য মাইলফলকে।
বিশ্ব ক্রিকেটে এর আগে মাত্র পাঁচজন ব্যাটার এই রেকর্ড গড়তে পেরেছিলেন। তবে সবচেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর রেকর্ড এখন কোহলির দখলে। এর আগে দ্রুততম ১৪ হাজার রান করার কীর্তি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি Chris Gayle–এর। তিনি ৪২৩ ইনিংসে এই অর্জন করেছিলেন। কোহলি সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন।
ম্যাচটির আগে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ায় সমালোচনার মুখে ছিলেন কোহলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন অনেকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই ব্যাট হাতে জবাব দিলেন ভারতীয় এই ব্যাটার।
১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে ধীরে ধীরে কেকেআরের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তার ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা।
কোহলির এই ইনিংসে ছিল অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে তার ফুটওয়ার্ক এবং গ্যাপ খুঁজে বের করার দক্ষতা আবারও চোখে পড়ে।
কোহলির সঙ্গে দারুণ সমর্থন দেন Devdutt Padikkal। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়ে আরসিবিকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। পাডিক্কাল ৩৯ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেঙ্গালুরুর হাতে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের সহজ জয় পায় আরসিবি। প্লে-অফের লড়াইয়ে এই জয় দলটির জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ম্যাচের সেঞ্চুরিটি ছিল কোহলির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১০ম শতক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে টি-টোয়েন্টির অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, কোহলির সবচেয়ে বড় শক্তি তার ধারাবাহিকতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হোক কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চ— চাপের মুহূর্তে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার মানসিকতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও এখন শীর্ষদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে তার ওপরে রয়েছেন Chris Gayle, Kieron Pollard, Alex Hales, David Warner এবং Jos Buttler।
কোহলির এই ইনিংসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় ওঠে। সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের অনেকে তার ইনিংসকে “চ্যাম্পিয়নের প্রত্যাবর্তন” বলে উল্লেখ করেন। অনেকের মতে, চাপের মুখে যেভাবে তিনি ফিরে আসেন, সেটিই তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।
স্টেডিয়ামেও কোহলির প্রতিটি বাউন্ডারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শতরান পূর্ণ করার পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উদযাপন।
৩৭ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেও কোহলি যেভাবে ফিটনেস ধরে রেখেছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর অনুশীলন ও শৃঙ্খলাবোধই তাকে এত দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকিয়ে রেখেছে।
একসময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে শুধুই পাওয়ার হিটিংয়ের খেলা হিসেবে দেখা হলেও কোহলি দেখিয়েছেন, পরিকল্পিত ব্যাটিং এবং ইনিংস গড়ে খেলার মাধ্যমেও এই সংস্করণে সফল হওয়া সম্ভব।
১৪ হাজার রান পূর্ণ করার পর এখন নতুন রেকর্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন কোহলি ভক্তরা। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে আসতে পারেন তিনি।
আরসিবির জন্যও তার এই ফর্ম বড় স্বস্তির খবর। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারের এমন পারফরম্যান্স শিরোপা লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন