দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মানবসেবায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ব্রিটেনের রাজার আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যারিস্টার তুষার

মানবসেবায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ব্রিটেনের রাজার আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যারিস্টার তুষার

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের অভিযোগ: আইন কী বলছে, কেন বাড়ছে উদ্বেগ

স্কুল ড্রেস পরে মডেল মসজিদে টিকটক, বকশীগঞ্জের এক ছাত্রীকে

মডেল মসজিদে টিকটক ভিডিও: ভাইরাল ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে ইউএনও’র নির্দেশ

এআই প্রযুক্তির স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন আনলো ওয়ালটন, যুক্ত হলো স্টিম ও ওয়াশার-ড্রায়ার সুবিধা

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ১৬ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা, আদায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১১ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা
খুলনায় বাজার তদারকিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান

খুলনাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকিতে নেমে একদিনে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৩ মে) পরিচালিত এ অভিযানে খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানো, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা না টানানো এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার মতো নানা অভিযোগে জরিমানা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে মোট সাতটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, সবজি, ডিম, পেঁয়াজ ও মুরগির বাজারদর যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচারও পরীক্ষা করা হয়।

বাজারে নজরদারি বাড়ালো ভোক্তা অধিকার

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেউ নির্ধারিত দামের বেশি নিলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মহানগরীতে একাধিক প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সদর থানার হাজী মহাসিন রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে “লিবাস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে ময়লাপোতা মোড় এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় “নুর সুইটস”-কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং “প্রেসলে দ্যা বেকারস”-কে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং ভোক্তা অধিকার আইন মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেটিও তদারকির আওতায় আনা হয়েছে।

দৌলতপুরে আইসক্রিম কারখানায় অভিযান

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানার একটি আইসক্রিম প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হয়। “এ বি আইসক্রিম” নামের ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানোর অভিযোগ ওঠে।

এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া ও মাগুরায় হোটেল-স্টোরে ব্যবস্থা

কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ইবি গেট বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে “নান্না বিরিয়ানি হাউজ”-কে ৫ হাজার টাকা, “পিন্টু হোটেল”-কে ১ হাজার টাকা এবং “ইবি স্নাক্স”-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ ছিল অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদন।

এদিকে মাগুরার শাখিলা উপজেলার চতুরবাড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে “মেসার্স শারুখ স্টোর”-কে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় “মেসার্স রাসেল স্টোর”-কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাটে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ

বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পোলেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় “হেলাল মেডিকেল হল”-এ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া “দুলাল স্টোর”-কে অবৈধ পণ্য বিক্রির অভিযোগে ৫০০ টাকা এবং “ব্রাইট ডেন্টাল কেয়ার”-কে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই সহজে নিয়ম মানতে চায় না। তাই এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মেহেরপুরে ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে বড় জরিমানা

মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে মুজিবনগরের দরিয়ারনগর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় “মেসার্স জুই ও জিহাদ এন্টারপ্রাইজ”-কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া “টিংচার মেডিকেল হল”-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসা ও ওষুধসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জনস্বার্থে অভিযান চলবে

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সচেতন করাও ছিল অন্যতম লক্ষ্য। বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানো, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সামাজিক প্রভাব ও সচেতনতার প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে নিয়মিত নজরদারি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও ওষুধের ক্ষেত্রে অনিয়ম সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। তাই প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও ভোক্তাদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরিমানার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

বিষয় : বাজার তদারকি বাংলাদেশ খুলনা ভোক্তা অধিকার অভিযান জরিমানা সংবাদ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


খুলনায় ভোক্তা অধিকারের জোরালো অভিযান, ১৪ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

খুলনাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকিতে নেমে একদিনে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৩ মে) পরিচালিত এ অভিযানে খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানো, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা না টানানো এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার মতো নানা অভিযোগে জরিমানা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে মোট সাতটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, সবজি, ডিম, পেঁয়াজ ও মুরগির বাজারদর যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচারও পরীক্ষা করা হয়।

বাজারে নজরদারি বাড়ালো ভোক্তা অধিকার

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেউ নির্ধারিত দামের বেশি নিলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মহানগরীতে একাধিক প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সদর থানার হাজী মহাসিন রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে “লিবাস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে ময়লাপোতা মোড় এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। এ সময় “নুর সুইটস”-কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং “প্রেসলে দ্যা বেকারস”-কে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং ভোক্তা অধিকার আইন মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেটিও তদারকির আওতায় আনা হয়েছে।

দৌলতপুরে আইসক্রিম কারখানায় অভিযান

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানার একটি আইসক্রিম প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হয়। “এ বি আইসক্রিম” নামের ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানোর অভিযোগ ওঠে।

এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া ও মাগুরায় হোটেল-স্টোরে ব্যবস্থা

কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ইবি গেট বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে “নান্না বিরিয়ানি হাউজ”-কে ৫ হাজার টাকা, “পিন্টু হোটেল”-কে ১ হাজার টাকা এবং “ইবি স্নাক্স”-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ ছিল অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদন।

এদিকে মাগুরার শাখিলা উপজেলার চতুরবাড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে “মেসার্স শারুখ স্টোর”-কে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় “মেসার্স রাসেল স্টোর”-কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাটে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ

বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পোলেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় “হেলাল মেডিকেল হল”-এ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া “দুলাল স্টোর”-কে অবৈধ পণ্য বিক্রির অভিযোগে ৫০০ টাকা এবং “ব্রাইট ডেন্টাল কেয়ার”-কে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই সহজে নিয়ম মানতে চায় না। তাই এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মেহেরপুরে ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে বড় জরিমানা

মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে মুজিবনগরের দরিয়ারনগর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় “মেসার্স জুই ও জিহাদ এন্টারপ্রাইজ”-কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া “টিংচার মেডিকেল হল”-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসা ও ওষুধসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জনস্বার্থে অভিযান চলবে

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সচেতন করাও ছিল অন্যতম লক্ষ্য। বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টানানো, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সামাজিক প্রভাব ও সচেতনতার প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে নিয়মিত নজরদারি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও ওষুধের ক্ষেত্রে অনিয়ম সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে জড়িত। তাই প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও ভোক্তাদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরিমানার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর