দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথে বেড়া: জমি দখলের অভিযোগে বিপাকে কৃষক ও গ্রামবাসী

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথে বেড়া: জমি দখলের অভিযোগে বিপাকে কৃষক ও গ্রামবাসী

চট্টগ্রামের চকবাজারে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা: ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে ব্যঙ্গ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আলমডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যানদের অফিসে বসা ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

ক্ষতিকর রং মিশিয়ে আইসক্রিম প্রস্তুত: নকলায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

টানা বর্ষণে সিলেটে বাড়ছে নদীর পানি, হাওড়ে আগাম বন্যার শঙ্কা

এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ জয়—দেশে ফিরেই বীরকন্যাদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন: হাইকোর্টের আদেশে নতুন মোড়, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা

শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথে বেড়া: জমি দখলের অভিযোগে বিপাকে কৃষক ও গ্রামবাসী

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথে বেড়া: জমি দখলের অভিযোগে বিপাকে কৃষক ও গ্রামবাসী
-ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় একটি বহুল ব্যবহৃত চলাচলের পথ হঠাৎ করে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে মাঠের ধান ঘরে তুলতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঘটনাটি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুর মৌজার প্রায় ৩ শতাংশ জমি কবলা সূত্রে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আরিফ উদ্দীন। এই জমির ওপর দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা যাতায়াত করতেন এবং বিল থেকে ধান আনা-নেওয়া করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল সকালে প্রতিবেশী মোঃ সৈয়দ আলী ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন। এতে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় বহুদিনের ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ

জমির মালিক দাবিদার মোঃ আরিফ উদ্দীন বলেন,
“জমিটি আমার কেনা সম্পত্তি হলেও আমরা জনস্বার্থে এটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন বিবাদীরা জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছে এবং রাস্তায় বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যেও দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের ধান ঘরে তুলতে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।



অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, সেই মোঃ সৈয়দ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টির সত্যতা আংশিক স্বীকার করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এড়িয়ে যান।
তবে তিনি সরাসরি কোনো লিখিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


স্থানীয়দের বক্তব্য

এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা।

জয়পুর গ্রামের এক বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—
“এই রাস্তাটা না থাকলে আমাদের বিল থেকে ধান আনা প্রায় অসম্ভব। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।”

আরেকজন স্থানীয় কৃষক জানান,
“ধান কাটার সময় এমন সমস্যা হওয়ায় আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারি। দ্রুত এর সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।



প্রভাব ও বিশ্লেষণ

গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের চলাচলের পথ সাধারণত স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এলাকায় জমি থেকে ফসল ঘরে তোলার জন্য এসব পথের বিকল্প অনেক সময় থাকে না।

এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—

  • কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
  • অতিরিক্ত সময় ও খরচ বাড়ছে
  • স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে তা সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।


প্রশাসনের ভূমিকা

এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান,
“রাস্তা বন্ধ ও জমি দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



ব্যালান্সড রিপোর্টিং

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের তদন্তের পর বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


উপসংহার

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার এই অভিযোগ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে— এমন আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা দ্রুত পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক যাতায়াত ও কৃষিকাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।

বিষয় : জমি দখলের অভিযোগ চলাচলের পথ বন্ধ গ্রামবাসীর ভোগান্তি কৃষক সমস্যা বাংলাদেশ গ্রামীণ সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথে বেড়া: জমি দখলের অভিযোগে বিপাকে কৃষক ও গ্রামবাসী

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় একটি বহুল ব্যবহৃত চলাচলের পথ হঠাৎ করে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে মাঠের ধান ঘরে তুলতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ঘটনাটি উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুর মৌজার প্রায় ৩ শতাংশ জমি কবলা সূত্রে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আরিফ উদ্দীন। এই জমির ওপর দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা যাতায়াত করতেন এবং বিল থেকে ধান আনা-নেওয়া করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল সকালে প্রতিবেশী মোঃ সৈয়দ আলী ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন। এতে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় বহুদিনের ব্যবহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ

জমির মালিক দাবিদার মোঃ আরিফ উদ্দীন বলেন,
“জমিটি আমার কেনা সম্পত্তি হলেও আমরা জনস্বার্থে এটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন বিবাদীরা জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছে এবং রাস্তায় বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যেও দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের ধান ঘরে তুলতে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।



অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়া

অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, সেই মোঃ সৈয়দ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টির সত্যতা আংশিক স্বীকার করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এড়িয়ে যান।
তবে তিনি সরাসরি কোনো লিখিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


স্থানীয়দের বক্তব্য

এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা।

জয়পুর গ্রামের এক বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—
“এই রাস্তাটা না থাকলে আমাদের বিল থেকে ধান আনা প্রায় অসম্ভব। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।”

আরেকজন স্থানীয় কৃষক জানান,
“ধান কাটার সময় এমন সমস্যা হওয়ায় আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারি। দ্রুত এর সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।



প্রভাব ও বিশ্লেষণ

গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের চলাচলের পথ সাধারণত স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এলাকায় জমি থেকে ফসল ঘরে তোলার জন্য এসব পথের বিকল্প অনেক সময় থাকে না।

এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—

  • কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে
  • অতিরিক্ত সময় ও খরচ বাড়ছে
  • স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে তা সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।


প্রশাসনের ভূমিকা

এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান,
“রাস্তা বন্ধ ও জমি দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



ব্যালান্সড রিপোর্টিং

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের তদন্তের পর বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


উপসংহার

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার এই অভিযোগ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে— এমন আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা দ্রুত পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক যাতায়াত ও কৃষিকাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর