নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী দুইটি পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হত্যা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় এই জামিন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইভীর জামিনের খবর প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এই সাবেক মেয়রকে ঘিরে এমন রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট এস এম হৃদয়। শুনানিতে তারা জামিনের পক্ষে বিভিন্ন আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ রায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আইভীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পটভূমি বেশ দীর্ঘ। গত বছরের ৯ মে গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একে একে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দেয়। তবে আপিল বিভাগে সেই জামিন স্থগিত হয়ে যায়, ফলে আইনি জটিলতা অব্যাহত থাকে।
এরপর গত বছরের ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই মামলাগুলোতেও হাইকোর্ট জামিন প্রদান করে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোও স্থগিত হয়ে যায়।
সবশেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা দুটি হত্যা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মামলায় নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল পৃথকভাবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আইভীর জামিনের খবরে নারায়ণগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনতে পারে।
দেওভোগ এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার জামিনের খবর শুনে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।”
তবে স্থানীয় পর্যায়ে এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়, বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী ধাপ। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক মামলার ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এই মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা প্রতিটি মামলাই আলাদাভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলো ইতোমধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও নথি পর্যালোচনার কাজ করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো এবং পরবর্তীতে জামিনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে তারা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনের ভিত্তিতেই গৃহীত হয় এবং সেটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।
দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে এটি তার সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে, অন্যদিকে মামলার ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সবশেষে বলা যায়, মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণাধীন থাকবে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই আইনি লড়াই কোন দিকে এগোবে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী দুইটি পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হত্যা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় এই জামিন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইভীর জামিনের খবর প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এই সাবেক মেয়রকে ঘিরে এমন রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট এস এম হৃদয়। শুনানিতে তারা জামিনের পক্ষে বিভিন্ন আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ রায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আইভীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পটভূমি বেশ দীর্ঘ। গত বছরের ৯ মে গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একে একে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দেয়। তবে আপিল বিভাগে সেই জামিন স্থগিত হয়ে যায়, ফলে আইনি জটিলতা অব্যাহত থাকে।
এরপর গত বছরের ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই মামলাগুলোতেও হাইকোর্ট জামিন প্রদান করে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোও স্থগিত হয়ে যায়।
সবশেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা দুটি হত্যা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মামলায় নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল পৃথকভাবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আইভীর জামিনের খবরে নারায়ণগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনতে পারে।
দেওভোগ এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার জামিনের খবর শুনে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।”
তবে স্থানীয় পর্যায়ে এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়, বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী ধাপ। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক মামলার ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এই মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা প্রতিটি মামলাই আলাদাভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলো ইতোমধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও নথি পর্যালোচনার কাজ করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো এবং পরবর্তীতে জামিনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে তারা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনের ভিত্তিতেই গৃহীত হয় এবং সেটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।
দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে এটি তার সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে, অন্যদিকে মামলার ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সবশেষে বলা যায়, মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণাধীন থাকবে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই আইনি লড়াই কোন দিকে এগোবে।

আপনার মতামত লিখুন