নবীনগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদলের দুই কর্মীর মৃত্যু, আহত আরও তিনজন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ছাত্রদলের দুই কর্মী। মুহূর্তের এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই এলাকায়।মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই রূপ নেয় মর্মান্তিকেপ্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে নারুই ব্রিজের সামনে দুটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে চলার সময় হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে দুই মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচজনই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।[TECHTARANGA-POST:969]নিহত ও আহতদের পরিচয়নিহতরা হলেন নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (৩২) এবং শ্রীরামপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহিম খন্দকার (২৬)। স্থানীয়ভাবে তারা দুজনই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা ইয়াছিন আরাফাত রিমনসহ আরও দুইজন। আহতদের বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. সিফাত জানান, আহতদের হাসপাতালে আনার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের জরুরি চিকিৎসা চলছে।শোকের ছায়া রাজনৈতিক অঙ্গনেঘটনার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, নিহত দুইজনই সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।তিনি আরও বলেন, এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক নিয়ে আবারও প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই ব্রিজ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই জায়গায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।”এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি।সড়ক দুর্ঘটনা ও সচেতনতার প্রশ্নসড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর পেছনে অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং সড়কের অব্যবস্থাপনাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তরুণ চালকদের মধ্যে নিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশাএ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে স্পিড ব্রেকার, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।[TECHTARANGA-POST:971]শেষ কথানবীনগরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়কে সামান্য অসতর্কতাও কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে এই ঘটনা।
সঠিক উদ্যোগ ও সচেতনতা বাড়াতে পারলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।