দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মার্চে ২৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের বড় অভিযান, নজরে ব্যাংক হিসাব ও জমি

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নতুন গতি এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের মার্চ মাসে আদালতের ১২টি পৃথক আদেশের মাধ্যমে মোট ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মাসজুড়ে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।আদালতের ১২ আদেশে জব্দ সম্পদের বড় তালিকাদুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে পাওয়া ১২টি আদালতের আদেশের ভিত্তিতে এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়।দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি সম্পদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।১৭ একর জমি থেকে ফ্ল্যাট—স্থাবর সম্পদের বড় অংশ জব্দমার্চ মাসে মোট ৫টি আদেশে স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৬০৫ টাকা।এই তালিকায় রয়েছে— প্রায় ১৭ একর জমি একটি ভবন একটি টিনশেড বাড়ি তিনটি ফ্ল্যাট একটি পুকুর চারটি বাণিজ্যিক স্পেস একটি বাড়ি দুদক জানিয়েছে, এসব সম্পদ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে।ব্যাংক হিসাবসহ ১২ কোটি টাকার আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধঅন্যদিকে, ৭টি পৃথক আদেশে অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৮ টাকা ৬৪ পয়সা।এগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— ৭৪টি ব্যাংক হিসাব ৮টি সঞ্চয়ী হিসাব ১টি চলতি হিসাব ৩টি ক্রেডিট কার্ড ৫টি এফডিআর ২টি বিও হিসাব ১টি সঞ্চয়পত্র ৪টি মেয়াদি আমানত বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্থাবর নয়, ব্যাংকিং লেনদেন ও আর্থিক রেকর্ডেও এখন জোরালো নজরদারি করছে দুদক।মোট জব্দ সম্পদ ২৮ কোটি টাকার বেশিসব মিলিয়ে মার্চ মাসে দুদকের ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ১১৩ টাকা।দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন গতিবাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে থাকে। অভিযোগ প্রমাণ বা তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়, যাতে তদন্ত চলাকালে অর্থ বা সম্পদ সরিয়ে ফেলা না যায়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বড় অঙ্কের সম্পদ জব্দের প্রবণতা বেড়েছে, যা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন গতি যোগ করেছে।ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদেও নজরবিশ্লেষকদের মতে, আগে যেখানে শুধু জমি বা ভবনের ওপর নজর বেশি ছিল, এখন ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র ও ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এতে করে অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।দ্রুত বিচার নিয়ে প্রশ্নযদিও দুদকের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, শুধু সম্পদ জব্দ করলেই দুর্নীতি পুরোপুরি দমন হয় না।তাদের মতে, মামলার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।শেষ কথা মার্চ মাসে দুদকের ২৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার ঘটনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই অভিযানের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে তদন্তের স্বচ্ছতা, বিচার প্রক্রিয়ার গতি এবং শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর।

মার্চে ২৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের বড় অভিযান, নজরে ব্যাংক হিসাব ও জমি