দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: চালবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ৭, আহত ৬

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গভীর রাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ব্যস্ত এই অংশে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা চালবোঝাই একটি ট্রাক চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।ঘটনার সময় ট্রাকটির ওপর অন্তত ১৩ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। ট্রাকটি খাদে পড়ে গেলে তারা সবাই নিচে চাপা পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জন মারা যান। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।[TECHTARANGA-POST:837]গুরুতর আহত অবস্থায় ৬ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দাউদকান্দি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি খাদ থেকে তোলা হয় এবং নিহতদের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে।তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে চালকের ঘুম বা অতিরিক্ত গতি এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত চাপ, নিয়ম না মানা এবং অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর যাত্রী বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি আইনত নিষিদ্ধ হলেও অনেক জায়গায় এখনো এই প্রবণতা দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।এছাড়া দেশের সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো চালকদের অতিরিক্ত সময় ধরে গাড়ি চালানো। এতে ক্লান্তি ও ঘুম চলে আসে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাতেও এমন কিছু ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করে।সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি। দাউদকান্দির এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—অসতর্কতা ও নিয়ম ভাঙার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং আইন মেনে চলার বিকল্প নেই।

দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: চালবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ৭, আহত ৬