নওগাঁয় বিশেষ চেকপোস্টে ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক পরিবারের তিনজন আটক
নওগাঁর পোরশা থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একই পরিবারের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) রাতের দিকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মাদক উদ্ধার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে সারাইগাছি রোডে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। এরই অংশ হিসেবে পোরশা থানার অধীন গাংগুরিয়া ইউনিয়নের সরাইগাছি এলাকা থেকে সাপাহারগামী মহাসড়কে এই অভিযান চালানো হয়।[TECHTARANGA-POST:927]রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ফকিরের মোড়ের কাছে চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সাপাহারমুখী একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেয়। পরে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে বিধি অনুযায়ী তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় নারী-পুরুষসহ মোট তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কাছে থাকা ব্যাগ ও সামগ্রী তল্লাশি করা হয়।তল্লাশির একপর্যায়ে তিনটি সাদা পলিথিনে রাখা মোট ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পুরোনো পালসার মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্যও প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. শাওন শেখ (২৪), তার মা মোছা. রিক্তা বেগম (৪০) এবং স্ত্রী মোছা. রুবিনা (২২)। তাদের বাড়ি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আমডাঙ্গা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তারা একই পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।[TECHTARANGA-POST:922]আরও জানা যায়, শাওন শেখ ও তার মা রিক্তা বেগম মূলত এই ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তবে সন্দেহ এড়াতে তারা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সঙ্গে রাখতেন। এমনকি অভিযানের সময় রুবিনার কোলে একটি শিশুসন্তানও ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পরিবারসহ চলাচল করাই ছিল তাদের কৌশল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যে মাদক পাচারের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ওষুধের অবৈধ বেচাকেনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। ট্যাপেন্টাডল মূলত একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ, যা অপব্যবহারের কারণে মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চক্রের বিস্তৃতি সম্পর্কে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে পোরশা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে, যাতে মাদক পরিবহন রোধ করা যায়। তারা আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।সব মিলিয়ে এই অভিযানে একটি সক্রিয় মাদক চক্রের কৌশল সামনে এসেছে, যেখানে পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের এই অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এমন অপরাধ দমন করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।