প্রীতি ফুটবলে উত্তাপ, জয় তুলে নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই ম্যাচটি শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সম্প্রীতি এবং উদ্দীপনা তৈরির একটি উপলক্ষ হিসেবেও কাজ করেছে।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। মাঠে উপস্থিত দর্শকরাও প্রাণভরে উপভোগ করেন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত দক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং পরিকল্পিত আক্রমণের কারণে ঢাবি দল এগিয়ে যায় এবং জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল কমিটির সভাপতি ড. মুহা. রফিকুল ইসলাম, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম জাকারিয়া, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক। তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল পালন করা হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা এবং নতুন ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরা। বিভিন্ন দেশেই এ উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে খেলাধুলা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্যতম। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দিবস উদযাপন ক্রমেই বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী। এখানেই অতীতে বহু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এই প্রীতি ম্যাচও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করে এবং একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি করে। পাশাপাশি এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশও সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি ছিল আনন্দ, উদ্দীপনা ও শিক্ষামূলক বার্তার এক সুন্দর সমন্বয়। খেলাধুলার মাধ্যমে যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, এই আয়োজন তারই একটি সফল উদাহরণ হয়ে থাকল।