ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে সহিংসতার হুঁশিয়ারি, ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেখানে সাবেক এক নেতার সহিংসতাসূচক বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে এখন ক্যাম্পাসজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।বিক্ষোভ মিছিল ও বিতর্কিত বক্তব্যশুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত সংগঠন’ ও তাদের কার্যক্রমের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।মিছিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, “হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।”তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকেই বিষয়টিকে উসকানিমূলক ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন।[TECHTARANGA-POST:1097]রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানবিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ক্যাম্পাসে কিছু সংগঠন প্রকাশ্যে রাজনীতি না করে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করছে।ওমর ফারুক আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি সহ্য করা হবে না। তিনি মন্তব্য করেন, “জিয়া পরিবারকে নিয়ে কেউ অশ্লীল কিছু বললে আমরা চুপ থাকব না।”তার এই বক্তব্যে মিছিলস্থলে উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে জানা গেছে।আহ্বায়ক নেতার অভিযোগএকই কর্মসূচিতে ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪-১৫ সালের পর নিষ্ক্রিয় থাকা কিছু ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবার সক্রিয় হয়েছে।তার দাবি, এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন নামে ক্যাম্পাসে সংগঠন তৈরি করে হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।‘গুপ্ত সংগঠন’ নিয়ে নতুন বিতর্কবিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা দাবি করেন, কিছু সংগঠন প্রকাশ্যে রাজনীতি না করে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে।এ নিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চললেও, নতুন করে এই ইস্যু সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।ক্যাম্পাস রাজনীতির পটভূমিইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার, হল নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা গেছে।বিশেষ করে অতীতের বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।বিশ্লেষকদের মতবিশ্লেষকদের মতে, “গুপ্ত সংগঠন” নিয়ে যে অভিযোগগুলো উঠছে, তা নতুন নয়। অতীতেও একই ধরনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।তারা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত না হয়।শিক্ষার্থীদের উদ্বেগসাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে সহিংসতার ইঙ্গিত থাকলে তা ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ দরকার, এমন উত্তেজনামূলক বক্তব্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।”[TECHTARANGA-POST:1098]প্রশাসনের ভূমিকার দিকে নজরএ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।উপসংহারসব মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিক্ষোভ ও বিতর্কিত বক্তব্য ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সহিংসতার হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে—তারা কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।