মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন সুপারক্যারিয়ার এইচডব্লিউ বুশ, অঞ্চলে বাড়ছে সামরিক উপস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে দুইটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যেই নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নিমিটজ শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটি তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রণতরিটির একটি ছবি প্রকাশ করে তারা জানায়, বর্তমানে এটি ভারত মহাসাগর এলাকায় চলাচল করছে এবং শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে।
তবে এই রণতরিটি আগে থেকেই সেখানে থাকা কোনো জাহাজের পরিবর্তে যাচ্ছে, নাকি অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে যোগ দেবে—সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানানো হয়নি। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
এর আগে থেকেই লোহিত সাগরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এটি মূলত সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার করার দায়িত্ব পালন করছে।
বর্তমানে সেন্টকমের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে অন্তত ১৯টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে দুইটি বিমানবাহী রণতরি—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এই ধরনের রণতরি সাধারণত যুদ্ধবিমান বহন করে এবং প্রয়োজনে আকাশ ও সমুদ্র—দুই দিক থেকেই সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
এ ছাড়া সেখানে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ। এসব জাহাজ মূলত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি রয়েছে কমব্যাট শিপ ও অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপের কয়েকটি জাহাজ, যেগুলো দ্রুত সৈন্য ও সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ভারত মহাসাগর এলাকাতেও আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। এসব জাহাজ মূলত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি সংবেদনশীল এলাকা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো মানে শুধু যুদ্ধ প্রস্তুতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই কমান্ডের অধীনে স্থল, নৌ ও আকাশ—তিন বাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত নৌ-উপস্থিতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তাও এতে স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগর এলাকায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি বাড়ানো শুধু সামরিক কৌশলের অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যপথের ওপর নজরদারি জোরদারেরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।