মান্দায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ‘শীর্ষ মাদক কারবারি
ওগাঁর মান্দা উপজেলায় পুলিশের এক অভিযানে ১৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামিকে আটক করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) মান্দা থানা পুলিশের একটি দল নিয়মিত অভিযান চালানোর সময় তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তি মোঃ আমিনুল ইসলাম আমিন (৩৮)। তিনি উপজেলার ভারশো পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবুল কাশেম এবং মায়ের নাম আলেয়া বিবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং নিশ্চিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আটক হওয়ার পর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমিন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তার কারণে এলাকার যুবসমাজের একটি অংশ বিপথে চলে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে এলাকায় মাদক কার্যক্রম কিছুটা হলেও কমবে।
বাংলাদেশে ইয়াবা একটি ভয়াবহ মাদক হিসেবে পরিচিত। মূলত এটি মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও চোরাচালান চক্র নানা কৌশলে এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এর বিস্তার বেশি দেখা যায়।
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও গত কয়েক বছরে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করছে। তবুও চাহিদা ও চোরাচালান নেটওয়ার্কের কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনো চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
মান্দা থানার এক কর্মকর্তা জানান, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পরিবারিক নজরদারি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। তা না হলে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আমিনের গ্রেফতার মান্দা এলাকার জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাদকবিরোধী এই লড়াইকে সফল করতে হলে ধারাবাহিক অভিযান এবং সামাজিক উদ্যোগ—দুটিই সমানভাবে চালিয়ে যেতে হবে।