ঢাকায় আদালতের নির্দেশ, সাবেক দুই মন্ত্রীর রিমান্ড মঞ্জুর
আবু সায়েদ হত্যা মামলায় দীপু মনি ও আরিফ খান জয়ের রিমান্ড মঞ্জুর, আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত
মুদি দোকানি আবু সায়েদ হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দীপু মনির চার দিন এবং আরিফ খান জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মোহাম্মদপুর থানার পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিন তাদের আলাদা সময়ের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আদালতে হাজির করার সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে আটক করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
একই ঘটনায় তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু এবং স্বামী তৌফীক নাওয়াজের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে একই দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকেও মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাদের নাম উঠে এসেছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই এই রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে একই ধরনের মামলায় আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যেও অনেকে রিমান্ডে আছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন মামলায় একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব মামলার তদন্তে অর্থনৈতিক দুর্নীতি, সহিংসতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে আবু সায়েদ হত্যা মামলার এই অগ্রগতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।