দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে

আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল তেল উদ্ধার

“কৃষকের ঘরে স্বপ্নের আলো: ‘কৃষক কার্ড’ দিয়ে সরাসরি টাকা, বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি”

গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

পহেলা বৈশাখে কন্যা সন্তানের জন্ম, মেয়েকে শিক্ষিকা বানানোর স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত সুনামগঞ্জের ঝুমা

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মাঝেও স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ!

খবরটি সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া যাক—

বৈশাখে কৃষকদের জন্য বড় উপহার! টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে

আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে
-ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ভিড়েছে তেলবাহী জাহাজ। সিঙ্গাপুর থেকে আনা ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল বহনকারী একটি জাহাজ মঙ্গলবার সকালে বন্দরে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি মজুতে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। একই দিনে রাতে আরও দুটি বড় ডিজেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামের জাহাজটি সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। এতে রয়েছে ১২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল। এই চালান সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড। দেশের বিমান চলাচল খাতে এই জ্বালানির গুরুত্ব অনেক, যদিও এর ব্যবহার ডিজেলের তুলনায় কম।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন। এই মজুত দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও কিছুটা বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে জেট ফুয়েলের বিক্রি হয়েছে প্রায় ২১ হাজার টন, যা দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যবহার সামান্য বেশি।

অন্যদিকে, ডিজেলের চাহিদা দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল নির্ভর। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ কারণে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে আরও দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ। ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। এছাড়া ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল, যার সরবরাহকারী ভিটল এশিয়া। এই দুই চালান মিলিয়ে মোট প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল যুক্ত হবে দেশের মজুতে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশের মোট ডিজেল চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। মাসের শুরুতে ৩ এপ্রিল দুই জাহাজে করে ৬১ হাজার টন ডিজেল এসেছিল। এরপরও চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, দৈনিক গড়ে ১১ হাজার ১৩৮ টন।

১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দুই চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও ৪-৫ দিন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দরই দেশের প্রধান জ্বালানি আমদানির কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিতভাবে বড় বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ে। অতীতে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং সামনে আরও আসবে। তার মতে, চলতি মাসে বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ধারাবাহিক আমদানির ফলে আপাতত দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতেও এই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ভিড়েছে তেলবাহী জাহাজ। সিঙ্গাপুর থেকে আনা ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল বহনকারী একটি জাহাজ মঙ্গলবার সকালে বন্দরে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি মজুতে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। একই দিনে রাতে আরও দুটি বড় ডিজেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামের জাহাজটি সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। এতে রয়েছে ১২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল। এই চালান সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড। দেশের বিমান চলাচল খাতে এই জ্বালানির গুরুত্ব অনেক, যদিও এর ব্যবহার ডিজেলের তুলনায় কম।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন। এই মজুত দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও কিছুটা বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে জেট ফুয়েলের বিক্রি হয়েছে প্রায় ২১ হাজার টন, যা দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যবহার সামান্য বেশি।

অন্যদিকে, ডিজেলের চাহিদা দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল নির্ভর। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ কারণে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে আরও দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ। ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। এছাড়া ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল, যার সরবরাহকারী ভিটল এশিয়া। এই দুই চালান মিলিয়ে মোট প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল যুক্ত হবে দেশের মজুতে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশের মোট ডিজেল চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। মাসের শুরুতে ৩ এপ্রিল দুই জাহাজে করে ৬১ হাজার টন ডিজেল এসেছিল। এরপরও চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, দৈনিক গড়ে ১১ হাজার ১৩৮ টন।

১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দুই চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও ৪-৫ দিন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দরই দেশের প্রধান জ্বালানি আমদানির কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিতভাবে বড় বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ে। অতীতে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং সামনে আরও আসবে। তার মতে, চলতি মাসে বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ধারাবাহিক আমদানির ফলে আপাতত দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতেও এই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর